‘অজু করার পর নামাজে দাড়াতেই প্রশান্তিতে মন ভরে গেল’ : হ্যাপী

প্রকাশিত

ডেস্ক প্রতিবেদন : সময়ের আলোচিত নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী তার স্বপ্ন দেখা নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করা হ্যাপী বলছেন নিজে যেমন পাল্টে গেছেন তেমনি সবাইকে শোধরানোর আহ্বান জানান। নীচে হ্যাপীর পুরো স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো।

“আসসালামু আলাইকুম সবাইকে লেখাটি পড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইলো

রাতে হাদীসের বই পড়তে পড়তে ভুলেই গিয়েছিলাম ঘুমাতে হবে! গতকাল রোযা রেখেও খুব ক্লান্ত বোধ হচ্ছিল না।আলহামদুলিল্লাহ! রাতে বিশেষ করে মৃত্যুর সময় কেমন হবে?,কারা কবরে যাওয়ার পর জান্নাতে বা জাহান্নামে যাবে সেই সম্পর্কে অবগত হবে?,জান কবজের সময় কতটা কষ্ট হবে?,মৃত্যুর পর কবর কি বলবে?ফেরেশতাগণ কি বলবে?এই সব আরো ভালভাবে জানার জন্যই ঐসকল হাদীস পড়ছিলাম।

এবং পড়ার সময় আল্লাহর ভয়ে ও ,মৃত্যুর ভয়ে মনে হচ্ছিল আমার সারা শরীর ছোট হয়ে আসছে,গলার আওয়াজ শেষ হয়ে যাচ্ছে!আবার যখন আল্লাহর রহমতের কথা পড়ছিলাম তখন মনে সামান্য আশার আলো দেখছিলাম।তবুও ভয় লাগছিল কারণ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার রহমত ছাড়া ঐদিন মুক্তি সম্ভব নয়।

মালাকুল মউতের আগমন , তার সম্পর্কে ,তার ব্যবহার সম্পর্কে আরও জানতে পেরে আমি ভয়ে আরও অসহায় হয়ে যাচ্ছিলাম।মালাকুল মউত কোন অবস্থায় কার সঙ্গে দেখা করবে এটা আল্লাহ ছাড়া কেউই জানেন না ।আমরা কেবল আশা রাখতে পারি আর এই দোয়া করতে পারি যে, মালাকুল মউত যেন তার ভয়াবহ রূপে না আসেন।এবং সেটাই অনেক।

সেই সত্তার কসম ! বিশ্বাস করেন বা না করেন আমি প্রতিদিন কতবার করে যে মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র কল্পনা করি আর আল্লাহর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা স্মরন করি যার হিসাব নেই ।এবং এই চিন্তা সারাক্ষনই মনে হতে থাকে।আলহামদুলিল্লাহ!

নবী-রাসূল,সাহাবীগণ কতই না পবিত্র আর আল্লাহর প্রিয়,তারা মৃত্যুভয়ে অস্থির থাকতেন ,আর আমরা কতই না পাপী বান্দা কিন্তু আমরা দুনিয়ার চাকচিক্যের মোহে ডুবে আছি হায়রে! আমরা কোন আমলনামা নিয়ে হাসরের ময়দানে উঠব একবার ভাবুন তো?

আমি হাদীস পড়ার পর আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম,আমি যেন স্বপ্নে মালাকুল মউতের ভয়ংকর রূপ দেখি! কারণ সেই দৃশ্য দেখে যেন আমার এমনই ভয় আসে আল্লাহর প্রতি ,যা কবরে যাওয়া পর্যন্ত থাকে।এবং আমি যেন কোনভাবেই কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত না হই।ইয়া আল্লাহু।

সকালবেলা আচমকা ঘুম ভেঙ্গে যায়,কোন একটা স্বপ্ন দেখছিলাম কিন্তু মনে করতে পারিনি।তবে সারা শরীর ভয়ে জমে গিয়েছিল ,বিছানা থেকে এক চুল নড়ার শক্তি পাইনি আর মনে হচ্ছিল মালাকুল মউত এসে গেছেন এবং আমি মনকে শক্ত করছিলাম ও মৃত্যুর জন্য তৈরি হচ্ছিলাম।আর মনে মনে বলছিলাম হে আল্লাহ, মালাকুল মউত যেন সুন্দর চেহারা নিয়ে আমার জান কবজ করে।তারপরই আযান দিল এবং অজু করার পর নামাজে দাড়াতেই প্রশান্তিতে মন ভরে গেল।সুবাহানাল্লাহ!

ভাবুন, দুনিয়াতে কি কাজ করার জন্য আল্লাহ পাঠিয়েছেন?আর আমরা কি করছি?একবার মারা গেলে হাজার কান্নাকাটি করে লাভ নেই।চাইলেও আবার দুনিয়াতে এসে ভুল শুধরাতে পারবোনা।ঐ দিনকে ভয় করুন যেদিন নিজ নিজ কর্মের হিসাব দিতে হবে এবং কিছুই লুকাতে পারব না।এমনকি টাকা -পয়সা ,ক্ষমতা কিছুই কাজে আসবে না।”

শেয়ার করুন