অসম প্রেমের করুণ পরিনতি: প্রেমিকা হত্যায় প্রেমিক জেলে!

মুক্তমন রিপোর্ট, ঢাকা : এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পর পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছে প্রেমিক। পরে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী শহরের আনোয়ার সড়কের হক ম্যানশন থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিরিন সুলতানা রত্না (১৬) সৌদি প্রবাসী আনিছুল হকের মেয়ে। শহরের পৌর বালিকা বিদ্যানিকেতন থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে।এঘটনায় আবদুল্লাহ আল নোমান বিপ্লব (১৮) নামে কথিত প্রেমিক পুলিশের কাছে ধরা দিয়ে হত্যাে কথা স্বীকার করেছে। শুক্রবার রাতে সে জবানবন্দি দিয়েছে।বিপ্লব পুলিশকে জানায়, তাদের মধ্যে প্রেম ছিল। তবে সে দরিদ্র পরিবারের ছেলে হওয়ায় প্রেমের সফল পরিণতির সম্ভাবনা ছিল না। তাই রত্নাকে খুন করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খান চৌধুরী জানান, বিপ্লব রামগতির আলেকজান্ডার এলাকার জেলে সিরাজ মিয়ার ছেলে। সে চর আলেকজান্ডার কলেজের আইএর ছাত্র। বিপ্লবের খালা ইয়ানুর বেগম লিপি হক ম্যানশনের পঞ্চমতলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এই সুবাদে বিপ্লব ও রত্নার মধ্যে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। তবে সম্প্রতি এই সম্পর্কের ব্যাপারে রত্না ও বিপ্লবের মধ্যে এমন ধারণা জন্মে যে এ জীবনে তাদের বিয়ে হবে না। এ অবস্থায় তারা সিদ্ধান্ত নেয় রত্নাকে নিজ হাতে গলা কেটে হত্যা করে বিপ্লব বাকি জীবন বিয়ে না করে জেলে কাটাবে। কথামতো বিপ্লব রত্নার গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর সে রত্নার ঘরেই অবস্থান করছিল। পরে পাশের বাসার এক শিশু রত্নার লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পুলিশ এসে বাসা থেকে বিপ্লবকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত লেগে ছিল। ঘর থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের পর রত্নার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রত্নার মা শাহানা আক্তার বলেন, বিপ্লবই তার মেয়ের খুনি।