আইসিসের দেশ হতে বাংলাদেশের খুব বেশি দিন নেই

প্রকাশিত

তসলিমা নাসরিন: এই টাকাটা বাংলাদেশের। কেউ একটা সীল বসিয়েছে টাকাটার ডান দিকে, ‘এসো নামাজ পড়ি’। এরকম সীল নিশ্চয়ই আরো টাকায় বসানো হয়েছে। সত্তর -আশির দশকে আমরা কল্পনা করতে পারতাম না এসব। শুনেছি রিক্সা অটো বাস ট্রাক ট্যাক্সি — সব কিছুর গায়ে এখন ‘ নামাজ পড়ো রোজা করো’ এসব উপদেশ লেখা থাকে।

আমার তো মনে হয় না পাকিস্তান বা সৌদি আরবের টাকায় নামাজ পড়ার স্লোগান সেঁটে দেওয়া হয়। জানি, সরকার এই সীল মারেনি। সরকার মারেনি, কিন্তু সরকার এই সীল মারার মানসিকতা তৈরি করেছে, বা তৈরি করতে সর্বোত্তম সহযোগিতা করেছে। এরকম সীল কোনও মুসলিম দেশেই কেউ ব্যবহার করবে না। একমাত্র আইসিসের যদি রাজ্য বা দেশ থাকতো কোনও, তারাই তাদের টাকায় এই কর্মটি করতো। আইসিসের দেশ হতে সমগ্র বাংলাদেশের খুব বেশি দিন বাকি আছে বলে মনে হয় না।

দেশটা স্বাধীন হয়েছিল আমাদের ত্যাগে, সংগ্রামে। তারপর একের পর এক দুষ্ট শাসক এসে দেশটাকে আর দেশ রাখেনি। শেখ মুজিব ভালো নেতা ছিলেন, তিনি না ডাক দিলে মুক্তিযুদ্ধেই হয়তো মানুষ যেত না। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হাসতে হাসতে দেশের মেরুদন্ড ভেংগে দিয়ে চলে যেত। শেখ মুজিব ভালো শাসক ছিলেন না, শাসক হিসেবে তিনি নিতান্তই গণ্ড মূর্খ ছিলেন। সব ভালো নেতাই ভালো শাসক হন না। শেখ মুজিবের পর আর্মি থেকে জিয়া এলেন, তিনি খাল কেটে কেটে বড় বড় কুমীর রাজাকারকে ডাঙায় আনলেন। এরপর আর্মি থেকে এরশাদ এলেন, তিনি সংবিধানের বারোটা বাজিয়ে ছাড়লেন। ধর্মান্ধতা আর সাম্প্রদায়িকতাকে তিনি রীতিমত বৈধ করলেন। জিয়ার মৃত্যুর পর খালেদা এসে জিয়া যে সর্বনাশটা করে যেতে পারেননি, করলেন। তারপর হাসিনা গণতন্ত্র নামে যে নামকাওয়াস্তে হলেও একটি জিনিস ছিল, সেটিকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিলেন। চুরি ডাকাতি লুটতরাজ দুর্নীতি ধর্মান্ধতা মৌলবাদ সাম্প্রদায়িকতা সন্ত্রাস স্বৈরাচার মহা সমারোহে চলছে দেশটিতে। হাসিনা একা যত সর্বনাশ করেছেন দেশটির, তত সর্বনাশ অন্য শাসকেরা একা পারেননি, সবাই মিলে করেছেন।

হাসিনা নিজে ৫ বেলা নামাজ পড়েন। তিনি জনগণকে উপদেশ দেন নামাজ পড়তে।এই কওমি মাতা টাকার এই সীলকে, বলা যায় না, পাকা করেও দিতে পারেন, অর্থাৎ ছাপিয়েও দিতে পারেন। কোনও কিছুই দেশটিতে আর অসম্ভব নয়।

শেয়ার করুন