আটদিনেও গ্রেফতার হননি এমপি লিটন: এলাকায় ক্যাডারদের অস্ত্রের মহড়া

প্রকাশিত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : শিশু সৌরভের দু’পায়ে গুলি করা এবং হাফিজার রহমানের বাড়ি ভাংচুর মামলার আসামি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গত আট দিনেও খুঁজে পায়নি পুলিশ। এদিকে এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে চলেছে তার ক্যাডারবাহিনী।

‘লিটনের পেটোয়াবাহিনী’ এলাকার লিটনবিরোধী আন্দোলন ও মিডিয়ায় তার সংবাদ প্রকাশ বন্ধে তৎপর হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, লিটন তার নতুন মোবাইল নম্বর থেকে ক্যাডারদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন।

আন্দোলনকারী সংগঠন সুন্দরগঞ্জ নাগরিক সংগ্রাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ উল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ‘এমপি লিটনের পেটোয়াবাহিনীর অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা এবং হুমকি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এ অপতৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন,’আমরা এমপি লিটনের দ্রুত বিচার দেখতে চাই। স্থানীয় প্রশাসনের এসব ব্যাপারে কোনও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।’

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মামলা দু’টি প্রত্যাহারের জন্য লিটনের অনুগত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা দুই বাদী পরিবারকে অনবরত হুমকি দিয়ে চলেছে। মোটা অংকের টাকার প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে।

গোপন একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লিটনের ক্যাডারবাহিনী বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট মামলার বাদি হাফিজার রহমান মণ্ডলকে জোর করে ধরে নিয়ে গাইবান্ধা আদালতে যায় এবং আদালত প্রাঙ্গণে তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিকে থাকে। তবে মামলা প্রত্যাহার কিংবা কোনও ধরনের আপোসে যেতে রাজি হননি হাফিজ।

সূত্রটি আরও জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি দোকানে চা পানরত অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সামুর কোমরে রাখা পিস্তলের একটি ছবি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনও ছবিটি পেয়েছে। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এমপি লিটনের পক্ষ থেকে সৌরভের বাবা সাজু মিয়াকে আপোস করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তিনি মামলা প্রত্যাহার না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ বিষয়ে বলেন, ‘বিচারের জন্যই মামলা করেছি, আইনের আশ্রয় নিয়েছি যেন আর কোন ভাই বা বাবার সন্তান এভাবে পঙ্গুত্ব বরণ না করে। এখন কেন আপস রফার প্রশ্ন?’

এদিকে, এমপি লিটনকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি সম্বলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে সুন্দরগঞ্জ পৌরশহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। তবে লিটনের ক্যাডাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লিগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম জানান, ‘টাকা ছিটিয়ে, ক্যাডার নামিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। এমপিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলমান থাকবে।’

পৌরমেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান,‘এমপি লিটনের ক্যাডারবাহিনীর হুমকির মুখে শান্তিপ্রিয় আন্দোলনকারীরা এখন শঙ্কায় রয়েছে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবিলম্বে লিটনের সংসদীয় সদস্যপদ বাতিল ও দলীয় সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এমপি লিটনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমপি লিটনের বিরুদ্ধে যাতে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ না হয়। সেজন্য সাংবাদিকদের রয়েছে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন।

গাইবান্ধা পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত এমপি লিটনকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘এমপিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের ছোড়া গুলিতে ২ অক্টোবর ভোরে সৌরভ মিয়া (৯) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়। সৌরভ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

একইদিনে (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় এমপি লিটন তার দলবল নিয়ে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার রহমানের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেন।

এসব ঘটনায় গত শনিবার রাতে গুলিবিদ্ধ শিশু সৌরভ মিয়ার বাবা সাজু মিয়া বাদী হয়ে সাংসদ মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে একমাত্র আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন এবং মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে তার ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগে লিটনসহ ১০ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন হাফিজার রহমান।

শেয়ার করুন