উন্নয়নের প্রচার আসছে বিলবোর্ডে

প্রকাশিত

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক : সরকারের টানা সাড়ে ছয় বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিদেশে সাড়া পড়লেও দেশে তেমন প্রচার-প্রচারণা নেই। এমনটাই মনে করছে শাসকদল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন ফোরামেও সমালোচনা রয়েছে দীর্ঘদিনের। তাই সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পর এবার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের কথা ভাবছে ক্ষমতাসীনরা।

প্রচারণার জন্য জেলা শহর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে থাকা বিলবোর্ডগুলোকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সচিত্র বর্ণনা থাকবে।

এ ছাড়া বিশেষ দিবস উপলক্ষে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করার দিকেও নজর রয়েছে সরকারের। একাধিক মন্ত্রী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা সরকারের এ পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমুদ্র বিজয়সহ বহুল আলোচিত ছিটমহল সমস্যার সমাধানও উঠে আসবে প্রচারণায়।

জানা গেছে, এসব উন্নয়ন প্রচারে চলতি মাসের মাঝামাঝি বা আসন্ন ঈদের আগে থেকে বিলবোর্ড করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মহানগরগুলোর মেয়র, প্যানেল মেয়রদের সঙ্গে ৩১ আগস্ট বৈঠক করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনগুলো অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানও শুরু করেছে।

অন্যদিকে দলীয়ভাবেও প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে সরকারের নিজস্ব পদক্ষেপ থাকে। আমরাও মনে করি সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি জনগণকে অবহিত করা উচিত।

জানা গেছে, বিলবোর্ডের খরচ দলীয় ফান্ড থেকে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে বিলবোর্ডে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম থাকবে।

ঢাকার দুটি সিটি কপোরেশনে সরকারের উন্নয়নখচিত বিলবোর্ড থাকবে প্রায় ৩ হাজার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, সরকারবিরোধীদের যে অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে, প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া সম্ভব হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়নের তুলনায় সরকারের প্রচার কম এটা সত্য। আসলে শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। কিন্তু উন্নয়নের পাশাপাশি প্রচারও জরুরি।’

শেয়ার করুন