এবার শিকলে বেঁধে শিশু নির্যাতন

প্রকাশিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে মো. রাকিব (৯) নামে এক শিশুকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার সকালে বাউফল পৌরসভার মোকলেছ ভবন নামে একটি বিপণিবিতানে এ ঘটনা ঘটে। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বিপণিবিতানের তত্ত্বাবধানকারী মো. খোকা মিয়া (৫৫) ও রাকিবের খালাতো ভাই মো. জুয়েলকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় জনতা ও পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েলের দাবি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বিকেলে রাকিব তার বাবার পকেট থেকে এক হাজার ১০০ টাকা চুরি করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। আজ সকাল ৮টার দিকে উপজেলা সদরের সরকারি পাবলিক মাঠ-সংলগ্ন রিকশাস্ট্যান্ডে রাকিবকে দেখতে পায় জুয়েল। পরে জুয়েল খোকা মিয়ার সহযোগিতায় রাকিবকে ধরে বিপণিবিতানের সিঁড়ির কাছে নিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে খোকা মিয়া শিকলে বাঁধা রাকিবকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু রাকিবকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় জুয়েল ও খোকা মিয়াকে আটক করা হয়।

শিকলে বাঁধা থাকা অবস্থায় রাকিব জানায়, আমারে জোতা দিয়্যা পিডাইছে। কিল্লাইগা মারছে, হেঠা আমি কইতে পারি না। খোকা মিয়া মারছে।

আটক জুয়েল বলেন, রাকিব আমার আপন খালাতো ভাই। খালু রাকিবকে আটকে রাখার জন্য বলেছেন। এ কারণে কয়েকটি চর-থাপ্পড় দিয়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.জ.ম. মাসুদুজ্জামান বলেন, শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই চুরির অভিযোগে সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকার বাদেয়ালি গ্রামের সবজিবিক্রেতা শিশু সামিউলকে চালিয়ে হত্যা করা হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। লাশ গুম করার চেষ্টা চালানোর সময় ধরা পড়ে একজন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কারা হয়। সামিউলকে নির্যাতন করার সময় নির্যাতনকারীরা ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়।

জনতা সামিউল হত্যা মামলার আসামিদের একে একে ধরিয়ে দেয়। পালিয়ে সৌদি আরব গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েন ঘটনার মূল হোতা কামরুল ইসলাম। আসামি কামরুলের দেশ ছেড়ে পালানোয় ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে গত ২৭ জুলাই সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও মো. জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন