কক্সবাজারকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা

মুক্তমন ডেস্ক : পর্যটন শহর কক্সবাজারকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ঘোষণা এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এর ফলে নানা দিক থেকে এগিয়ে যাবে শহরটি। তবে, স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার। ২০১৭ সালে এ জেলায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয় বিপুল সংখ্যক নির্যাতিত রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দেশি-বিদেশি সংস্থা ও এনজিও কর্মীরা আসতে শুরু করে কক্সবাজারে। যার প্রভাব পড়েছে সরকারি-বেসরকারিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ও দ্রব্য মূল্যসহ নানা ক্ষেত্রে জীবন যাপনের ব্যয় বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারকে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

এ গেজেট প্রকাশকে ইতিবাচক মনে করছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘গেজেট প্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটা সুযোগ থাকবে। এই উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ সকল কাজে কক্সবাজার অগ্রাধিকার পাবে এটাই ইতিবাচক দিক।’

তবে স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘোষণায় কেবল ইতিবাচক নয়, নেতিবাচক দিকও দেখা যেতে পারে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজারকে ব্য্যবহুল শহর হিসেবে ঘোষণা দেয়ায় বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বা প্রণোদনা যাই দেয়া হোক না কেন তার একটা প্রভাব পড়বে। কারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ জনগণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক ক্ষমতা সে হারে বাড়বে না।’

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন যাপন কষ্টকর হয়ে পড়বে।’ কক্সবাজারবাসীকে পর্যটনভাতা বা ঝুঁকি ভাতার আওতায় আনা দাবি জানান ফরহাদ ইকবাল।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ‘নেতিবাচক প্রভাব যাতে না পড়ে সেদিকে সরকারের দৃষ্টি রাখা উচিত।’

এই গেজেট প্রকাশে কক্সবাজার শহরের সরকারি কর্মচারীদের দৈনিক ভাতা বাড়বে ৩০ শতাংশ।