করোনাকে ভয় পাই, ভয় পাই না…

প্রকাশিত

আমিন আর রশিদ : করোনা ইস্যুতে শুরু থেকেই আমার অবস্থান খুব ক্লিয়ার। সেটা আবারও বলছি। করোনাকে অবশ্যই আমি ভয় পাই। ভয় পাই বলেই গত আড়াই মাসে একদিনও আমি মাছ কিনতে কারওয়ানবাজার বা সবজি কিনতে মোহাম্মদপুর বাজারে যাইনি। বাসার আশপাশ থেকেই কিনেছি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমি আতঙ্কে মরে যাব এবং সচেতনতার নামে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব।

ঈদের দিন আমি একাধিক বন্ধুর বাসায় গিয়েছি। আমার বাসায়ও লোকজন এসেছেন। কিন্তু সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি।

বাইরে বের হলে মাস্ক পরেই বের হই। ভিড়ভাট্টায় যাই না। কারো শরীরের সাথে যাতে থাক্কা না লাগে, সে বিষয়ে সচেতন থাকি।

…কিন্তু মনে রাখা দরকার, এই ভাইরাস খুব সহজে কারো শরীরে ঢুকবে না। গবেষণা অনুযায়ী, নাক মুখ চোখ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে এটি ঢোকার কথা নয়। সেজন্য বারবার হাত ধুতে বলা হয় বা স্যানিটাইজড করতে বলা হয়। কারণ আমরা সচেতন বা অসচেতনভাবেই নাকে মুখে হাত দিই। এটুকু সচেতনতা মেনে চলা খুব কঠিন নয়।

খুব সহজে কারো শরীরে করোনাভাইরাস ঢুকে যাবে, এমনও নয়। যদি তা-ই হতো, তাহলে কল্পনা করুন, ঈদের আগে লাখ লাখ মানুষ যেভাবে শারীরিক দূরত্ব বা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ফেরিতে গাদাগাদি করে বাড়ি গেলেন এবং ফিরে এলেন, তাতে তো বাই দিস টাইম হাজার হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কথা।

আপনি বলবেন, পরীক্ষা না করলে তো পজিটিভ নেগেটিভ ধরা পড়বে না। মেনে নিলাম, কয়েক লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। হয়তো আমিও আক্রান্ত। তাতে সমস্যাটা কী? যদি এই বিপুল পরিমাণ আক্রান্ত লোকগুলো গণহারে অসুস্থ না হয় বা গণহারে মৃত্যুবরণ না করে, তাহলে এটা নিয়ে খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়া বা আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ আছে কি না ? দশ লাখ লোক আক্রান্ত হলেন, এবং ৯ লাখ মানুষ সামান্য চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে গেলেন, কিছু লোক গুরুতর হলেন, কিছু লোক মারা গেলেন–সেই অনুপাতটা কত? সেই আক্রান্ত, শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যাকে ১৭ কোটি দিয়ে ভাগ দিলে পার্সেন্টিজ কত ?

সুতরাং…

কে কোথায় কখন কীভাবে মৃত্যুবরণ করবেন–তিনি নিজে যেহেতু এটা নির্ধারণ করেন না বা করতে পারেন না, ফলে কোনো বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার আগে তার বাস্তবতা উপলব্ধি করা; নিজের উপর আস্থা এবং আল্লাহ/স্রষ্টা/ঈশ্বর–যাই বলেন, সেই শক্তির উপরেও বিশ্বাস রাখা দরকার।

কারণ মানুষ নিজেই সবকিছুর নিয়ন্তা নয়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।

শেয়ার করুন