কিশোরগঞ্জে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো রোগে আক্রান্ত আমন ধান,

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক:কিশোরগঞ্জে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো রোগে আক্রান্ত আমন ধান,

করোনার দোহাই দিল কৃষি কর্মকর্র্তা

নীলফামারী প্রতিনিধি \ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাজরা পোকার আক্রমন,পাতা মোড়ানো ও খোঁল পচা রোগের কারণে আমন ধান চাষ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন উপজেলার ধান চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,এ বছর আমন ধান ক্ষেতে পাতা মোড়ানো,খোল পঁচা, মাজরা পোকার আক্রমণের ফলে ধানের গাছ গোড়া থেকে পঁচে গিয়ে পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের ফসল রক্ষা করার জন্য কৃষকদের ভাল পরামর্শ না দেয়ায় কিটনাশক ব্যবসায়ীরা এখন কৃষকদের একমাত্র সম্বল।

এ বছর আমন ধান চাষাবাদ করার জন্য আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় জমিতে আগেভাগেই আমন চারা রোপণ করেছিলেন স্থানীয় কৃষকেরা। চারা রোপণের পর প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগসহ আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছে।

মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি লেগে থাকায় সবুজ ক্ষেত গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করেছে। কিন্তু পাতা মোড়ানো, খোল পঁচা ও মাজরা পোকার আক্রমণে দিনে দিনে ফসল ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেও থামানো যাচ্ছে না আক্রমণ। ভিততাকো,,নাটিভো একাধিকবার প্রতিষেধক ওষুধ প্রয়োগ করেও ফল না হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা কৃষি পরামর্শ।

চলতি বছর এ উপজেলায় ১৪ হাজার ৯শত ২০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের উত্তর সিঙ্গেরগাড়ী পূর্ব পাড় গ্রামের আমন চাষি রাহেদুল হক বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই দেখা দিবে ধানের শীষ।

ইতোমধ্য ধানে মাঝে দেখা দিয়েছে খোলপঁচা,পাতা মোড়ানোসহ মাজরা পোকার আক্রমণ। অনেক ওষুধ দিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। সদর ইউনিয়নের বিএসসি পাড়ার আমন চাষী জিকরুল হক বলেন, জমিতে পোকা দমনে দুবার কীটনাশক স্প্রে করেছি কিন্ত কোন কাজ হয় না, একটু কমছে আবার দেখা দিচ্ছে।

উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের উত্তর সিঙ্গেরগাড়ী জুম্মাপাড়া গ্রামের আনারুল, আসাদুল্লাহ মিষ্টুসহ একাধিক কৃষক বলছেন, এবার মাঠজুড়ে ধানের চেহারা ভালো ছিল। আর কদিন পরেই ধানের শীষ ফুটবে।

ভালো ফলন আশা করছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ খোলপঁচা, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন তারা। তাদের অভিযোগ মাঠে মাঠে এ অবস্থা বিরাজ করলেও কৃষি বিভাগের লোকজন কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

নিজেরাই বাজার থেকে প্রতিষেধক ওষুধ কিনে প্রয়োগ করছেন, কিন্তু ফল হচ্ছে না। এ অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের আশংকা করছেন কৃষকরা। তারা বলেন,গত ৬ মাসে দেখা মেলেনি উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌসের সাথে। এলাকার মানুষ বলছেন কৃষি অফিসারকে আমরা দেখি নাই।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ফেরদৌস হোসেনের সাথে দেখা হয় একটি বাজারে তাকে ধান চাষে মাজরা পোকার আক্রমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,মাঠে আছি। আমি ছুটিতে থাকার পরেও মাঠে কাজ করছি।

আপনি কেন ছুটিতে আছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি করোনা পজেটিভ। পরীক্ষা করেছেন কি না? তিনি বলেন না? তাহলে কিভাবে আপনি করোনা পজেটিভ হলেন? তখন তিনি বলেন,স্যারের সাথে আমি ছিলাম। স্যারের করোনা পজেটিভ তাই আমারও করোনা পজেটিভ।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মাঠ পর্যায়ে কোন খোঁজ খবর নিতে পারিনি। তিনিও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌসের করোনা পজেটিভ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আমন ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণের বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। এখন আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

তারিখঃ ১৪-০৯-২০২০ইং
মোঃ খাদেমুল মোরসালিন শাকীর
নীলফামারী

শেয়ার করুন