গণমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকারকে এক পাল্লায় মাপবেন না

প্রকাশিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : গণমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের এক পাল্লায় মাপবেন না। গণমাধ্যমের মধ্যে সংবাদে ব্যালেন্স (ভারসাম্য) করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব ব্যালেন্স করা নয়। গণমাধ্যম হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষতার নামে জঙ্গিবাদকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এক পাল্লায় মাপার চেষ্টা করবেন না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনি বস্তুনিষ্ঠ হবেন, আপনি সরকারের ভুল-ত্রুটির ব্যাপারে সরকারের সমালোচনায় মুখর হবেন; কিন্তু রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধাকে এক পাল্লায় মেপে সমাজে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠা করার দুর্ষ্কমে কোনো সংবাদকর্মী লিপ্ত হবেন না।

তিনি বলেন, বর্তমানে তথ্য চাপা দেওয়া, ইতিহাস বিকৃতি করা, তথ্য বিকৃতি করার এই প্রবণতা রয়েছে। তথ্য চাপা দেওয়া ও অপ-সাংবাদিকতার ঝোঁক থেকে গণমাধ্যমের পবিত্রতা রক্ষা করার দায়িত্ব গণমাধ্যমকর্মীদের। গণমাধ্যম কর্মী ছাড়াও রাষ্ট্র, সমাজ, সরকার যৌথভাবে তথ্য সন্ত্রাসের ছাপ ও হলুদ সাংবাদিকতা থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করবেন।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম সব সময় গণতন্ত্র-উন্নয়নশীল-অর্থনীতির স্নেহময়ী মাতা হিসেবে গণতন্ত্র এবং আমাদেরকে শাসনও করবেন, আদরও করবেন ও প্রসংশাও করবেন।

তথমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রনায়করা, রাজনীতিবিদরা ভুল করতে পারেন, গণমাধ্যমের ভুল করার কোনো অবকাশ নেই। আমরা ভুল করলে সমাজ ও গণমাধ্যম ঐকবদ্ধভাবে তা শুধরে দেয়। কিন্তু যারা অভিভাবকদের পাহারা দেন, সেই পাহারাদাররা যদি ভুল করেন; তাহলে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। সুতরাং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি ভুল করতে পারি; কিন্তু গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে আপনার ভুল করার কোনো অধিকার নেই।

হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মনে রাখবেন, তথ্য কোনো পণ্য নয়; তথ্যের একটি সামাজিক মাত্রা আছে। সেজন্যে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা সমাজের প্রতি, সেই দায়বদ্ধতা নারীর সম্ভ্রমের প্রতি, সেই দায়বদ্ধতা শিশুর নিরাপত্তা, সেই দায়বদ্ধতা ভূখণ্ড ও ইতিহাসের প্রতি, মানবমুক্তির আদর্শের প্রতি, বাংলাদেশের জন্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি। এই দায়বদ্ধতা অস্বীকার করলে গণমাধ্যম সমাজের দপর্ণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা আইন দ্বারা এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না, করা সম্ভবও না। কিন্তু আপনার বিবেক ও চেতনা দ্বারা এই দায়বদ্ধতাকে স্বীকার করে সাংবাদিকদের পেশায় কর্মরত থাকতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর সারওয়ার জাহান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক শাহ আলমগীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ।

এরপর সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে। প্রবন্ধে তিনি জাতীয় উন্নয়নে গণমাধ্যম, আঞ্চলিক সাংবাদিকতার কৌশল, বাংলাদেশে আঞ্চলিক সাংবাদিকতার ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত, বর্তমান অবস্থা, বেতন বৈষম্যসহ নানা সমস্যা ও কিছু সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন।

মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন পিআইবি‘র সাবেক মহাপরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। এছাড়া আলোচক ছিলেন সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, স্থানীয় দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, স্থানীয় দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত ও রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ। পরে উন্মুক্ত আলোচনা শেষে তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন।

এ সেমিনারে রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন