জমজমের পানি সম্পর্কে অজানা তথ্য

ডেস্ক প্রতিবেদন : হজ করতে গিয়ে জমজম কূপের পানি নিয়ে আসেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। প্রতিদিন এই কূপ থেকে বিরতিহীন পানির সরবরাহ চলতে থাকে।

জমজম কূপটি কাবাঘর থেকে মাত্র ২১ মিটার পূর্ব দিকে। বিজ্ঞানীরা জমজম কূপ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে চলেছেন। এমনকি ‘জমজম স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ আছে সৌদি জিওলজিক্যাল সার্ভের। জমজম কূপের পানির স্তর মাটি থেকে প্রায় ১০.৬ ফুট নিচে। কোনো কোনো সময় জমজমের পানি ৮০০০ লিটার প্রতি সেকেন্ডে ২৪ ঘণ্টা ধরে পাম্প করা হয়। অবাক করার ব্যাপার, তখন পানির স্তর নেমে যায় ৪৪ ফুট নিচে। কিন্তু পাম্প বন্ধ করার মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে তা উঠে আসে ১৩ ফুট ওপরে। প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি পাম্প করার মানে হচ্ছে, এক দিনে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। তাই বিজ্ঞানীরা অবাক হন ভেবে, কিভাবে ১১ মিনিটের মাথায় তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। আর কম দিন তো হয়নি, সেই হজরত ইসমাইল (আ.)-এর সময়কাল থেকে পানি নির্গত হচ্ছে।

প্রাকৃতিকভাবেই এখানে একটি অতিরিক্ত একুইফার আছে। একুইফার হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির একটি স্তর, যা একটি ভেদ্য শিলার জন্ম দেয়, যার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি সহজে নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়। জমজমের পানির কোনো রং নেই, এমনকি কোনো গন্ধও নেই। কিন্তু এর একটি স্বতন্ত্র স্বাদ আছে। পানি সাধারণত আমাদের পিপাসা মেটায়; কিন্তু জমজমের পানি পিপাসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধাও মেটায়। ইউরোপিয়ান ল্যাবরেটরি জমজমের পানির নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করে দেখেছে, এতে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের আধিক্য রয়েছে। ফলে এটি ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এতে ফ্লোরাইডের ভূমিকা আছে, যা জীবাণু প্রতিরোধে সহায়ক।

মাসারু এমোটোর গবেষণার ফল

* জমজমের পানির মতো বিশুদ্ধ পানি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

* সাধারণ পানির ১০০০ ফোঁটার সঙ্গে যদি জমজমের পানির এক ফোঁটা মেশানো হয়, তাহলে সেই মিশ্রণও জমজমের পানির মতো বিশুদ্ধ হয়ে যায়।

* জমজমের এক ফোঁটা পানির যে নিজস্ব খনিজ গুণাগুণ আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো পানির নেই।

* জমজমের পানির উপাদানগুলোকে পরিবর্তন বা রূপান্তর করা যায় না।