টি-টুয়েন্টির ট্রফিও জিতল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : রঙিন পোশাকে আরেকবার উৎসবে মাতল বাংলাদেশ! ওয়ানডের পর টি-টুয়েন্টি সিরিজের ট্রফিও বাংলাদেশ জিতল। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জিতে টি-টুয়েন্টির ট্রফি জিতল ২-১ ব্যবধানে।

ম্যাচের শেষদিকে আন্দ্রে রাসেল আউট হয়ে গেলে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের মুঠোয় চলে আসে। শেষ ১৭ বলে ম্যাচ জিততে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৫০ রান। শেষের তিন উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই বিশাল টার্গেট টপকে যাবে-এমন বিশ্বাস সম্ভবত খোদ ক্যারিবীয় ডাগআউটেও ছিল না। বৃষ্টিতে শেষমেষ আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ১৯ রানে এই ম্যাচ জিতে নেয়। সেই সঙ্গে ট্রফি জয়ের আনন্দে ভাসল পুরো দল এবং ফ্লোরিডার লুডারহিল স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্যালারি। জয়ের মিছিল নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠে পুরো দল।

ম্যাচ জয়ের উপাদান বাংলাদেশ মুলত পেয়ে যায় ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহে। রান তাড়ায় নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি। শুরুর ৩ উইকেট হারিয়ে বসে মাত্র ৩২ রানে। সেই সঙ্কট আর ম্যাচে কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। শেষের দিকে আন্দ্রে রাসেল অবশ্য একটা চেষ্টা করেছিলেন। ছক্কার ঝড় তুলেন। ৬ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে রাসেলের মাত্র ২১ বলে ৪৭ রানের ইনিংস বাংলাদেশের সম্ভাব্য জয়কে কিছুটা শঙ্কায় ফেলেছিল। কিন্তু মুস্তাফিজের লো ফুলটসে বাউন্ডারি লাইনে আরিফুল হক তার ক্যাচ নেয়ার পর এই ম্যাচে তখন একটাই অপেক্ষা; বাংলাদেশের জয়োল্লাসের!
বৃষ্টিতে সেই উৎসব খানিকটা বিলম্বিত হল শুধু!

টস জয়ী বাংলাদেশের ব্যাটিংকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। শুরুতে লিটনের ব্যাটে ঝড়। মাঝে সাকিবের হিসেবি ব্যাটিং। এবং ফিনিসিংয়ে সদানির্ভর মাহমুদউল্লহার ব্যাটে স্বস্তি। ওপেনার লিটনের ৩২ বলে ৬১। সাকিবের ২২ বলে ২৪। এবং শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহর ২০ বলে ৩২। সঙ্গে আরিফুল হকের ১৬ বলে অপরাজিত ১৮ রান। সম্মিলিত এই যোগফলই মুলত বাংলাদেশের সংগ্রহকে ১৮৪ রানের বড় স্কোর এনে দেয়।

ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী খোঁজা হচ্ছিল, আপাত সেই সঙ্কট দুর করেছেন লিটন দাস। ব্যাট হাতে এই ম্যাচে লিটন দাস খেললেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। টি-টুয়েন্টিতে এটি তার প্রথম হাফসেঞ্চুরি। আর সেই প্রথমও এল রেকর্ড নিয়ে। মাত্র ২৪ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিলেন লিটন। বাংলাদেশের হয়ে টি-টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির মুশফিক রহিমের রেকর্ডটা ছুঁয়ে ফেললেন এই মারকুটো ব্যাটসম্যান। দলের হয়ে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটা মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০৭ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আশরাফুল মাত্র ২০ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।

টি-টুয়েন্টিতে ১৮৪ রানকে বড় স্কোর মানতেই হবে। ফ্লোরিডার লুডারহিলের স্লো উইকেটে এত বেশি স্কোর তাড়া করে আগে কেউ কোন ম্যাচ জেতেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। ম্যাচ জেতার মতো প্রাথমিক কাজটা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শুরুতে সেরে রাখেন। বোলাররা সেই পথে শুধু অনায়াস ভঙ্গিতে হেটে এলেন যেন!

অধিনায়ক সাকিবের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তকে কার্যকর প্রমান করেন দুই ওপেনার ইনিংসের শুরুতেই। পাওয়ার প্লে’তে সত্যিকার অর্থেই ‘পাওয়ার’ দেখায় বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ৫০ রান এলো মাত্র ৩.৪ ওভারে। দলের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরিতে এটি নতুন রেকর্ড। ৬১ রানে ভাঙ্গলো বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। তামিম ফিরলেন ২১ রান করে। ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচে চড়ে বসার সুযোগ পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডের স্বাস্থ্য বেশ সবল দেখাচ্ছিল; ২ উইকেটে ৭১ রান!

সৌম্য সরকার ও মুশফিক রহিম চটজলদি আউট হলেও সেই সঙ্কট বুঝতে দেয়নি সাকিব ও লিটনের ব্যাটিং। ৩ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারিতে ২৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পুরো করার পর লিটন আরো মারমুখি হয়ে উঠেন। মাত্র ১০.৩ ওভারে বাংলাদেশের ১০০ রান পুরো হয়। লিটন ৩২ বলে ৬১ রান করে কেশরিক উইলিয়ামসের স্লোয়ারে আউট হলে দলের ইনিংসকে সামনে বড় স্কোরের সঠিক পথে রাখেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য ঠিক যেমন ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই পরিকল্পনায় বলা যায় দল শতভাগ সফল।

টি-টুয়েন্টির ট্রফি হাতে বাংলাদেশের উৎসব তারই প্রমাণ!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১৮৫/৫ (২০ ওভারে, লিটন ৬১, তামিম ২১, সৌম্য ৫, মুশফিক ১২, সাকিব ২৪, মাহমুদউল্লাহ ৩২*, আরিফুল ১৮*, ব্রাথওয়েট ২/৩২, কিমো পল ২/২৬, উইলিয়ামস ১/৩২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৩৫/৭ (১৭.১ ওভারে, ওয়ালটন ১৯, পাওয়েল ২৩, রামদিন ২১, রাসেল ৪৭, মুস্তাফিজ ৩/৩১, সাকিব ১/২২, সৌম্য ১/১৮, আবু হায়দার ১/২৭, রুবেল ১/২৮)।

ফল: বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয়ী। সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী। ম্যাচসেরা: লিটন দাস।