ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর কৌশল জয়ী

প্রকাশিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকঃ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাি আজ শুক্রবার (সকাল ১০টা-১১টা) সম্পন্ন হয়েছে। এবার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ছিল না কোনো সেট কোড। প্রশ্ন এবং অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওএমআর) ছিল একসঙ্গে। তবে ওএমআর এর মধ্যে একটি কোড ছিল। এই কোড অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ওএমআর এর রেজাল্ট নির্ণয় করা হবে। আর এ কারণেই এবার পরাস্ত হয়েছে জালিয়াত চক্র। এমনটাই দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী।

ওএমআর এ সেট কোড না থাকায় জালিয়াত চক্র কোনো শিক্ষার্থীর কাছে উত্তরপত্র পাঠাতে পারেনি। যার কারণে তারা পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছে। তাছাড়া ভ্রম্যমাণ আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের তৎপরতার কারণেই জালিয়াতি চক্র সুবিধা করতে পারেনি বলে দাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলীর। তবে তিনি বলেন, একটি চক্রের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের সম্পর্কে এখন কিছু বলতে চাই না।

ভর্তি পরীক্ষা শেষে প্রক্টর কার্যালয়ে তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা এবার কোন ধরনের অনিয়ম ছাড়াই সম্পূর্ণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের তৎপরতা এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছিল। এ কারণে চক্রগুলো কোনো ধরনের অনিয়ম সফল হয়নি।

তিনি বলেন, গত রাতে (বৃহস্পতিবার) ফেসবুকে যে সমস্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলোর ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়েছি। সেগুলো আসলে গুজব। তবে আমরা মোবাইল এবং বিকাশ নম্বরগুলো ডিবির হাতে রাতেই দিয়েছি। তারা আমাদের কোনো ধরনের জালিয়াত চক্রের কথা জানাতে পারেননি। হয়তোবা তারা এ নম্বরগুলো নিয়ে পরে তদন্ত করবেন।

ঢাকা ডিসি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি ভ্রম্যমাণ আদালত এ পরীক্ষায় কাজ করেন। এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় সকল শিক্ষার্থীদের তল্লাশীর পর পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেতে দেখা যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা হাত ঘড়ি, মোবাইলসহ সকল প্রকার ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস পরীক্ষা হলের বাইরে রেখে তাদেরকে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরের তিনটি কেন্দ্র বুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিলখানার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এবং কাকরাইল উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ৬৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেয়ার করুন