তাই স্বপ্ন দেখি ইনসাফের

প্রকাশিত

মুক্তাদির রশিদ রোমিও :

‘আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে…’

২০১৮ সালে টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সেখানকার পৌর কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. একরামুল হকের নিহত হওয়ার সময়ের রেকর্ডকরা অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমি কিছুদিন পরে সেখানে গেলাম নিজ আগ্রহে । টেকনাফে, বাজারের সাথেই তাদের নির্মাণাধীন বাড়ি। তখনো তার বাড়ির আশেপাশেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কালো রংয়ের পিক-আপে নিয়মিত প্রেট্রোলিং। এরই মধ্যে তাদের বাসায়।

তখনো তাদের বাড়ির সবাই আতঙ্কিত। আমার অপেক্ষা একরামের স্ত্রীর মুখে নৃশংস ঘটনার বর্ণনা শুনবো। বসতে দিলেন। অপেক্ষা করছি। কথা বলছি তাদের সেই মেয়েটির সাথে যার কন্ঠ সারা দেশ জানে। আতংকের ছাপ চোখে মুখে। এর কিছু সময় পর বাসায় তাদের দু একজন আত্মীয় ছুটে আসলেন। তারা আতংকিত। স্ত্রী এবার ভীতসন্ত্রস্ত। জানালেন, ” সাংবাদিক এসেছে তারা এটা জেনে গেছে। আমার সবাইকে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা কথা বল্লে আমাদের বিপদ হবে। আমাদের আত্মীয়দের বাসায় গিয়ে প্রেসার দিচ্ছে। প্লীজ আপনারা চলে যান।” কিন্তু আপনারা কথা বলতে চান দেখেই তো আসা। তিনি জানাছেন, ” আমরা সবাই বিপদে।” বাইরে মুশলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। নাস্তা খেতে খেতে অন্য কথা বলছি। ভদ্রমহিলা জানালেন, তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

বের হয়ে এলাম। মেরিন ড্রাইভ ধরে শহরে ফিরছি। প্রচন্ড হতাশ লাগছে। ভাবছি, আমরা এতটা অসহায়। এতটা? মাদক বিরোধী অভিযানে RAB এর কথিত বন্দুকযুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফে গত ২৬শে মে ২০১৮ একরামুল নিহত হন। তার কন্যার কান্না আর ঘটনার বর্ননা সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে। আমরা দু চার দিন সংবাদ পরিবেশন করে বিশাল দায়বদ্ধতা দেখাই। সেখানেই শেষ । যেহেতু সেদিন একরাম সমাজের কথিত খুবই ক্ষুদ্র মানুষ ছিলেন তাই তেমন কিছুই আর হয়নি। কেউ সেদিন ছিছি করেনি। তৃণমূলের নেতা মরলেই কি বাঁচলেই কি? তবুও তার জীবন। কার স্বপ্ন। তার সন্তান। এ সব কিছু?

জানি কোন বিচার হয়নি। হবারও নয়। এ সামান্য রাজনৈতিক নেতার জীবন আমাদেরকে আবেগকে তাড়িত করে না। কিন্তু তার রাজনৈতিক দল? এলাকার মানুষ? আসলেই তো কার দায় ঠেকেছে? আজ আমরা এ চরম বৈষম্যের সমাজে মানবিক চরিত্র দেখাচ্ছি। অথচ সেদিন ছোট্ট মেয়েটার ‘আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে…’ বাক্য বা একরামুলের গুলি পর কান্নার শব্দ আমাদের কানে পৌঁছেনি। এতো ছি ছিও কেউ তখন করেনি।

আজও অসহায় লাগে। আজও একরামুলের স্ত্রী বিদায় বেলার সেই অসহায় চাহনি চোখে ভাসে।

তাই স্বপ্ন দেখি ইনসাফের।

লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া।

শেয়ার করুন