তানোরে ১৫ ভাঙা সড়কে জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত

মুক্তমন ডেস্ক:সেই তিন দশক আগে কাঁচারাস্তাটি প্রথম পাকাকরণ করা হয়। তার পর থেকে আর কোনো সংস্কার হয়নি।

ফলে রাস্তার পিচ পাথর তো উঠছেই, নিচের ইট-বালি উঠে কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে এ রাস্তায় গর্তে পড়ে ছোট-বড় যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকছে সড়কের মাঝখানে।

বুধবার সকালে রাজশাহীর মুণ্ডুমালা ও আমনূরা ১০ কিলোমিটার সড়কের এমন বেহাল দশার কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার বাঁধাইড় ইউপির তেলোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মামুনুর রশীদ মামুন।

তিনি জানান, শুধু এই সড়ক নয়, মুণ্ডুমালা হতে গোদাগাড়ির জটেবটতলা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কটি ১৫ বছর ধরে সংস্কার হয়নি।

সেই সঙ্গে আইড়া মোড় থেকে বিল্লিহাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক ভাঙা। আবার বিল্লিহাট থেকে কলমা ও দরগাডাঙ্গা হয়ে ১৭ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। দেখে মনে হবে এসব পাকা সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ।

পিচ-পাথর, ইট-বালুর কোনো চিহ্ন নেই। বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। একসময়ে মুণ্ডুমালা থেকে গোদাগাড়ি পর্যন্ত বাস চলছিল।

সড়কের করুণ দশার কারণে সাত বছর ধরে বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে আছে।

এ ছাড়া তানোর থেকে কালীগঞ্জহাট হয়ে কাঁকনহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার। আবার সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোহর হয়ে লালপুর ও ইলামদোহাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক ভাঙা।

এক যুগেও সংস্কার হয়নি। এ অঞ্চলে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ১৫টির মতো সড়ক যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ নিয়ে অটোচালক আশরাফুল জানান, সড়কে গাড়ি চালিয়ে চার সদস্যের সংসার চলে তার। বর্তমানে তানোর উপজেলাজুড়ে একটিও সড়ক চলাচল উপযোগী নয়।

এসব ভাঙা সড়কে গাড়ি নিয়ে বের হলে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কখনও গাড়ির ব্যাটারি ডাউন, আবার কখনও কলকব্জা বিকল হচ্ছে।

এ নিয়ে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তানোর-মুণ্ডুমালা সড়ক প্রায় ১০ মাস আগে টেন্ডার হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ‘করোনা’ অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন। আমরা তাগাদা দিয়েছি।

এতে ঠিকাদার সড়কের পাশে পাথর ফেলতে শুরু করেছে। এ ছাড়া থানা মোড়ে নামফলকও নির্মাণ করা শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প কিছু দিনের মধ্যে স্থানীয় সংসদ এ কাজের উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে সব সড়কের কাজ শুরু হবে। নভেম্বর মাসে পুরোদমে কাজ শুরু করবে ঠিকাদার।

শেয়ার করুন