থানকুনি থেকে রেমডেসিভির

প্রকাশিত

আব্দুন নূর তুষার : প্রাচীন সমাজে অংক ছিল না। ছিলনা সম্ভাবনা বা প্রোব্যাবিলিটির হিসাব।

বিজ্ঞান ছিল না বিকশিত, ছিল না নানা রকম ঔষধ। বিপদ ছিল অনেক অনেক বেশী।

তাহলে মানুষ কি করে টিকে গেল তার এই দুর্বল শরীর ও নানা রকম অসুবিধা নিয়ে?

মানুষ তখন সিদ্ধান্ত নিত সরলতার সাথে।

নিশ্চিত না হয়ে কোন কাজ করতো না।

রাতে বিশেষ প্রয়োজন না হলে চলাচল করতো না।

আলো হাতে না নিয়ে অন্ধকারের দিকে যেতো না।

সিদ্ধান্ত নিজে নিতো অধিকাংশ সময়ে , অথবা ছোট কোন দলের মধ্যে।

অন্যের নেয়া সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থ বা স্বার্থের বিনিময়ে শ্রম দিতো না।

আগন্তুককে বিশ্বাস করতো না। আগেই নিরস্ত্র করতো।

সাধারনত তাদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতো ও ভালো করে খোঁজখবর নিতো। মেয়েদের কোনভাবেই আগন্তুকের কাছে যেতে দিতো না, তাতে করে সন্তান জন্মদান ও নতুন রোগ গোত্রে ঢুকে যাবার সম্ভাবনাকে প্রতিহত করতো।

সম্ভাবনার অংক প্রথম শুরু হয়েছিল জুয়াড়ীদের হিসাব বের করার জন্য। জোড়া ছক্কার গুটি ছুঁড়লে কয়বার কোন সংখ্যা উঠবে? এসব হিসাব বের করতে গিয়ে সম্ভাবনার অংকের বিকাশ।

আধূনিক মানুুষ সেই সংখ্যার ফাঁদে পড়েছে।

এখন বিজ্ঞানীরা বলেন ৩১% রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা বেড়েছে। লোকে দলে দেলে রেমডেসিভির খায়। বলেন ৩% বেশী সেরেছে। লোকে আবার দলে দলে….

থানকুনি থেকে রেমডেসিভির।

প্রবণতা কিন্তু একই। কেবল উপকরণ ভিন্ন।

রোগ নিরাময় বাড়ে নাই। যারা সুুস্থ হতো তারা আগে আগে সুস্থ হয়েছে। যারা মরার তারা মরে গেছে।

একটা মাত্র স্টাডি হয়েছে যেটা আমেরিকায়। সেখানে এমনিতেই অক্সিজেন ভেন্টিলেটর হাসপাতাল সব উন্নত। এটা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়, সাদা কালো চীনা পিগমী … সব রেসে পরীক্ষা করতে হবে, বিভিন্ন কন্ডিশনে দেখতে হবে । তারপর বলা যাবে আমেরিকায় ঔষধটির কাজ আর অন্য দেশে কাজ একই রকম কিনা।

রেমডেসিভির কোন নিরাময় না। এটা নিরাময়ের গতিবর্ধক। তাও প্রমাণিত না।

আমাদের উচিত কমন সেন্স কাজে লাগানো।

সাবান দিয়ে হাত ধুলে/ স্যানিটাইজার দিলে
ভালো মাস্ক পরলে
সামাজিক দূরত্ব রাখলে

৯৫% ক্ষেত্রে রোগটা হয় না।

তার মানে আপনার রোগটা না হবার সম্ভাবনা ৯৫%। হবার সম্ভাবনা ৫%।

রোগী হবার সম্ভাবনাকে ৯৫% করে দিয়ে , জিলাপী চটকে রোগী হয়ে, তারপর সেরে ওঠার সম্ভাবনা ৩১% বলেছে যে ঔষধ সেটা নিয়ে আপনার আনন্দের অন্ত নাই।

আপনি ৫% মরার সম্ভাবনাকে ২০% বানিয়ে , ৬৯% রোগভোগের সম্ভাবনা তৈরী করে রেমডেসিভির খাবেন , যে বলেছে সে কেবল ৩% রোগীকে বেশী সারাতে পারে বলে মনে করেছে, প্রমান করতে পারে নাই।

আপনি জিলাপী খাবেন, গায়ে গায়ে ঘষে ঈদের শপিং করবেন, ভালো মাস্ক পরবেন না, হাত পরিষ্কার রাখবেন না।

তারপর অসুখ হলে, যে বড়ির নাম উচ্চারণ করতে পারেন না, সেটার দু বড়ি খেয়ে সেরে যাবেন।

এই ভাবনা আপনাকে প্রাচীণ মানুষের চেয়েও পশ্চাদপদ নির্বোধে পরিনত করে।

লেখক : চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

শেয়ার করুন