রাঙামাটিতে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাইনবোর্ড

ডেস্ক : পাহাড় ধস ও দুর্যোগ মোকাববেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম হিসেবে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে তাতে বসবাস করার উপর নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনামূলক বিষয়ক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে শহরের পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বিভিন্ন স্থানে এই নিষোধজ্ঞা বিষয়ক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের ঢালে অবৈধ বসবাসকারীদের কঠোরভাবে প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। তিনি চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড় ও ভূমি ধস মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ বছর পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের আশংকা রয়েছে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের অবিলম্বে সরে যেতে হবে। তিনি গতবছরের পাহাড় ধসের বেদনায়ক ঘটনা উল্লেখ করেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে বসবাস না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পাহাড় ও ভূমি ধস মোকাবিলায় জনসচেতনতার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় চট্রগ্রাম, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার -এই পাঁচটি জেলার ৩৫টি উপজেলায় র‌্যালি, কর্মশালা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফাইল ছবি

এদিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক জানান, রাঙামাটিতে বর্ষার আগেই সম্ভাব্য পাহাড় ধস ও দুর্যোগ মোকাবেলায় নেয়া হচ্ছে পূর্ব প্রস্তুতি। সামনে বর্ষার আগেই গত মৌসুমে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, রাস্তা-ঘাট, সেতু মেরামত ও পুনঃনির্মাণ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ভূমিধসের প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করে পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পাদদেশের বসতি সরানো, কারিগরি বিষয়গুলো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে আমাদের কর্মপরিকল্পনায়।

ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করার নিষেধাজ্ঞা জারি ও সচেতনামূলক বিষয়ক সাইনবোর্ড স্থাপন শেষে এলাকায় বসবাসরত জনগণের সাথে জেলা প্রশাসন বসবাস করার নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনামূলক বিষয়ে আলোকপাত করেন।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াল পাহাড় ধসের দুর্যোগে রাঙামাটিতে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে এবং জানমালের ক্ষতি রক্ষায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।