‘পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সৌর জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ বাংলাদেশ’

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে সর্ববৃহৎ সৌর জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ।

তিনি বলেন, জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা চালানোর জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল কাজ শুরু করেছে।

ডিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. শোয়েব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশ এনার্জী রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খান বিশেষ অতিথি এবং বাংলাদেশ নিযুক্ত জার্মানীর রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, সরকার বিগত ৫ বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদান প্রায় দ্বিগুণ করেছে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমান বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সচেতন এবং যত্নবান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার লক্ষ্যে শিল্প-কারখানা সমূহে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এবং যার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হতে আসবে ৬,০০০ মেগাওয়াট।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর ৩টি প্যানেল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশন সমূহে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জী রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য সেলিম মাহমুদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন রশীদ, বিপিডিবি’র প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান, টুভ সুড-এর গ্লোবাল হেড বোরিস গেরিং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচকবৃন্দ পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সংষ্কারের পাশাপাশি নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, নাবায়নযোগ্য জ্বালানির খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ৫৫ শতাংশ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছে। আগামী ১০ বছরে জ্বালানি চাহিদা ১০ শতাংশ হারে বাড়বে।

এসময় তিনি স্বল্প ব্যয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সংষ্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন এবং এ খাতের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বানও জানান।

শেয়ার করুন