‘বন্ডের ফাঁকি দেওয়া শুল্কে ২টি পদ্মা সেতু সম্ভব’

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ হলে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক বেড়ে যাবে। আর তা দিয়ে বছরে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ব্যবসায় খরচ বৃদ্ধি সংক্রান্ত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই এ সেমিনারের আয়োজন করে।

করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে করাদাতার সংখ্যা মাত্র ১৩ লাখ। তাই করদাতাদের সংখ্যার বৃদ্ধির জন্য এ বছর ডিসিসিআই’র সাথে একযোগে উপজেলা পর্যায়ে কর মেলা আয়োজন করা হবে এবং করের নতুন নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করা হবে।

এসময় তিনি জানান, বর্তমানে কর জিডিপি’র হার ১০ শতাংশের নীচে রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে তা ১৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন অজ্ঞাত ব্যয় থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যয় নিরসনের জন্য আমাদেরকে এ ধরনের কার্যক্রমসমূহকে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তিনি জানান, ব্যাংক ঋণের সুদের হার আগের তুলনায় বেশ কমেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমবে। তিনি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়ন সূচকগুলোর ব্যবসায় ব্যয় লাঘবে কি ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে অবহিত করার উপর গুরুত্ব প্রদান করেন।

এক ব্যবসায়ীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হোদায়েত উল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, সরকার এসিড আমদানির ব্যাপারে নতুন লাইসেন্স প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের একান্ত আবশ্যকীয় পরিমান এসিড আমদানির ক্ষেত্রে অনুমতি প্রদানের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।

শীঘ্রই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার জন্য সরকার সকল শর্তাবলী বাস্তাবয়ন করেছে। শ্রম আইন ও ইপিজেড এ্যাক্ট শ্রীঘই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নতুন নতুন শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে ইপিজেড অঞ্চলে বিনিয়োগ করার আহবান জানান, যেখানে বিনিয়োগের জন্য নানাবিধ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই’র সহসভাপতি মো. শোয়েব চৌধুরী। ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, আইএফসি ব্যাংকে এসএমই বিভাগের টি. আই. এম রওশান জাদিদ, ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি এম এ মোমেন প্রমূখ।

শেয়ার করুন