বাংলাদেশে ঢুকে গুলি: জয়পুরহাটে বিএসএফ’র বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : বাংলাদেশে ঢুকে গুলি করে এক বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় সীমন্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে জয়পুরহাটে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার জয়পুরহাট জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাটি দায়ের করা হয়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নিহত সায়েম উদ্দিনের স্ত্রী আশিদা বেওয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, ভারতের দুর্গাপুর ৭৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চার্লি কোম্পানির কমান্ডার সিএল পাটেল, মি. মিনা এসি ও অনুশ কুমার এফএসসহ ওই কোম্পানির অজ্ঞাত ২৫ থেকে ৩০ বিএসএফ সদস্য।

আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম মিঞা শুনানি শেষে ১৫ দিনের মধ্যে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিহতের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া থানার ওসিকে এ ঘটনায় আর কোনও মামলা হয়েছে কি না সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে রামকৃষ্ণপুর মৌজার একটি পুকুরে ১২/১৩ বছর বয়সের সাত থেকে আটজন শিশু মাছ ধরতে যায়। এসময় সেখানে ভারতীয় সীমান্তে কর্মরত বিএসএসএফ সদস্যরা তাদের মাছ ধরতে বাধা দিয়ে গালিগালাজ করে। শিশুরাও বিএসএফকে পাল্টা গালিগালাজ করে চলে আসে। এ ঘটনার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ২৫/৩০ জন সশস্ত্র বিএসএফ সদস্যরা ৪০০-৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে ওই গ্রামের সায়েম উদ্দিন,ফারুক হোসেন,আবুজাফর,পরিমল মারডি ও নির্মল মারডি গুলিবিদ্ধ হয়।সঙ্গে সঙ্গে তাদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সায়েমকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় জয়পুরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল খালেক ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন- ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হতে সশস্ত্র অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জন লোক এসে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে ওই গ্রামের একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফের গুলি বর্ষণের ঘটনায় ওইদিনই উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গুলির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়াও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার কথাও বিএসএফ কমান্ডারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

শেয়ার করুন