বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া পরাজিত হতো : জোন্স

প্রকাশিত

ক্রীড়া ডেস্ক : নিরাপত্তার অজুহাত তুলে এবং নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ সফর বাতিল করে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। এই সফরে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা ছিল অজিদের। তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডিন জোন্স মনে করছেন সফরের এলে আসলে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হতো অস্ট্রেলিয়া। জোন্সের এই মন্তব্য ছাপা হয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সরস আলোচনা। সেখানে সরব বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল নিরাপত্তা নাকি কেবলই অজুহাত, আসলে নাকি ভয় পেয়ে আসেনি তারা! যদি হেরে যেতে হয়! অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ডিন জোন্স ঠিক সে কথা বলেননি। তবে সফরে এসে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরে যেত বলে দাবি তাঁর। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে নিজের লেখা কলামে জোন্সের অমন মত।

জোন্স বলেছেন, বাংলাদেশ সফর স্থগিত হওয়ায় লজ্জার হাত থেকে বাঁচল অস্ট্রেলিয়া। তার মতে,বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। তিনি বিশ্বাস করেন সফরটি হলে অস্ট্রেলিয়াকে হারাত বাংলাদেশ।

এমনিতেই উপমহাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ভালো নয়। তার ওপরে অ্যাশেজের পর অবসরে গেছেন মাইকেল ক্লার্ক, রায়ান হ্যারিস, ব্র্যাড হাডিন, শেন ওয়াটসন ও ক্রিস রজার্স। বিশ্রামের কারণে মিচেল জনসন ও জশ হ্যাজেলউডেরও আসার কথা ছিল না বাংলাদেশে। ইনজুরির কারণে নাম প্রত্যাহার করে নেন ডেভিড ওয়ার্নার। সব মিলিয়ে অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান দলটার পক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে ভালো করার কোনো কারণ খুঁজে পাননি ডিন জোন্স।

যে কারণে কোনো রাখঢাক না করে জোন্স সরাসরি বলেছেন উপমহাদেশে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ভালো না। আর এবার অনভিজ্ঞ দল গিয়ে বাংলাদেশে তাদের হারারই কথা ছিল।

তিনি বলেন, টপ অর্ডারে ডেভিড ওয়ার্নার, ক্রিস রজার্স নেই। বাংলাদেশ যে শুকনো, টার্নিং উইকেট বানাত, সেখানে স্টিভেন স্মিথ ছাড়া মিডল অর্ডারও ভঙ্গুর। স্কোয়াডে একজন মাত্র ব্যাটসম্যানেরই উপমহাদেশে সেঞ্চুরি রয়েছে, সেটি আবার ধারাবাহিকতার অভাবের মধ্যে থাকা শন মার্শের। সফর বাতিল হওয়ার আগে ঘোষিত স্কোয়াডের বোলিং আক্রমণ নিয়েও সন্তুষ্ট নন তিনি। জোন্স বলেছেন, বাংলাদেশ সফরের জন্য ডাকা বোলিং লাইন নিয়েও আমার উদ্বেগ রয়েছে। মিচেল স্টার্কের গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। উপমহাদেশের প্রতিটি উইকেটের জন্য নাথান লিওনকে খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৫০ রান। অ্যান্ড্রু ফেকের সামর্থ্য সম্পর্কে কেউই সেভাবে জানে না। আর স্টেফান ও’কিফ ও অ্যাস্টন অ্যাগার এখনো দলে থিতু হতে পারেনি।

বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়ে গেছে। এখন অস্ট্রেলিয়ান নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি অগ্নিপরীক্ষার হবে উল্লেখ করে সাবেক এ ব্যাটসম্যান বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া এখন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভেতর রয়েছে। বদলি হিসেবে যে নতুনরা এসেছে, তারা কতটা ভালো সেটি বোঝা যাবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের পারফরমেন্সে। কেননা বর্তমান কিউই দলটাকে আমার কাছে মনে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সফরে আসা সবচেয়ে সেরা কিউই দলগুলোর একটি।

শেয়ার করুন