বাড়বে ডোপামিন, ফিরে আসবে প্রাণবন্ততা!

ডেস্ক : ঘরের বাইরে বা কর্মক্ষেত্রে হাসিমুখ ধরে রাখলেও বাড়ি ফিরেই দুই ভ্রূ জড়সড়। যেন নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। পাশাপাশি যদি থাকে পড়াশোনা বা বাড়ির কাজের চাপ, তবে তো গেল যুদ্ধটা বেধেই! লিভিংরুমে বসে সবাই যখন আড্ডায় মত্ত, তখন আপনার খিটিমিটি হাল। কারণ আর কিছুই না, ডোপামিনের অভাব।

ডোপামিন একটি প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার, যা প্রেরণা, উৎপাদনশীলতা ও মনোযোগ নিবদ্ধকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিকভাবে দেহে উৎপাদিত হরমোন— ডোপামিন জীবনকে প্রাণবন্ততা দেয় ও নিয়ন্ত্রণ করে খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছাকেও। দুর্ভাগ্যবশত দৈনন্দিন অভ্যাস, খাদ্য ও অসুস্থতা ইত্যাদি কারণে ডোপামিনের মাত্রা হ্রাস পায়। ফলে জীবন থেকে আনন্দের দীপশিখা যেন খানিকটা দমে আসে। যদি অনুভূত হয় জীবন বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট প্রাণ পাচ্ছে না, তবে হতেও পারে কম মাত্রার ডোপামিন এর কারণ। ডোপামিনের অভাবের বিভিন্ন কারণের মধ্যে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করা, পুষ্টির ঘাটতি, স্থূলতা, থাইরয়েডের অসুখ, ওষুধের প্রভাব ও মাদকাসক্তি অন্যতম। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে এ ঘাটতি পূরণ করা যায়—

যদি খাদ্যাভ্যাসের কথাই বলা হয়, তবে আলু, টমেটো, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, কমলা, পালংশাক ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণ ডোপামিন রয়েছে। কলা ডায়েটারি ডোপামিনের বেশ ভালো উৎস। তবে কেবল ডোপামিন-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলেই মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এ ধারণা ভুল। ডোপামিনের মাত্রা উন্নত করতে উচ্চমানের প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। ডোপামিন তৈরি হয় অ্যামিনো অ্যাসিড ১-টাইরোসিন থেকে, যা সাধারণত উন্নতমানের প্রোটিন-জাতীয় খাবারে পাওয়া যায়। ডোপামিন সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানগুলো পাওয়া যাবে ১-টাইরোসিন-জাতীয় খাবার গ্রহণের মাধ্যমে। আমন্ড বাদাম, আপেল, অ্যাভোকাডো, কলা, বিটরুট, ডার্ক চকোলেট, কফি, সবুজ শাকসবজি, সবুজ চা, ওটমিল, অলিভ অয়েল, চীনাবাদাম, সামুদ্রিক শৈবাল, কুমড়োর বীচি, হলুদ, তরমুজ ও সব ধরনের প্রাণিজ প্রোটিনে রয়েছে এ অ্যামাইনো অ্যাসিড। প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার টকদই, আচার ইত্যাদিও ডোপামিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

শুধু উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমেই নয়, সঠিক নিয়মে শরীর ম্যাসাজ করলেও ডোপামিনের মাত্রা বাড়ে ও স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল হ্রাস পায় প্রায় ৩০ শতাংশ অব্দি। আর এ কারণেই বডি স্ক্র্যাব করলে শরীর ও মেজাজ ফুরফুরে থাকে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিষয়ে। কারণ নিশ্ছিদ্র ঘুমের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই ডোপামিনের মাত্রা উন্নত হয়। সূত্র: ব্রেইনএমডিহেলথ