বায়ান্নে পা রাখলেন জেমস

প্রকাশিত

বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় গায়ক ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস ৫২ বছরে পা রাখলেন। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর উত্তরের জেলা নাটোরে জন্মগ্রহণ করেন এই ‘নগর বাউল’।

প্রতি বছর এ দিনটিতে অগণিত ভক্ত-শ্রোতার ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। প্যারিস সফরের কারণে এবার তার ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে। দেশের বাইরে এ দিনটি উদযাপন করতে হচ্ছে তাকে।

তার এ বিদেশ সফরের খবর প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে আগেই জেনে গেছেন ভক্তরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে জন্মদিনের আগেই অনেকে নানা রকম উপহার নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রিয় শিল্পীর সামনে। কার্ড, মুঠোফোন, ফেসবুক ছাড়াও বিলবোর্ড বানিয়ে ভক্তরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপ সফরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সফরের আগে জেমস বলেন, ‘ঘটা করে জন্মদিন পালন করা হয়ে ওঠে না। তারপরও দিনটি জমকালো হয়ে উঠে ভক্তদের ভালোবাসা আর উপহারে। তাদের এ ভালোবাসা আমাকে এতটা পথচলার শক্তি জুগিয়েছে। যতদিন বাঁচব, তাদের ভালোবাসার দাবি মেটাতে গান গেয়ে যাব।।’

আজ প্যারিসে কনসার্ট আয়োজকদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করবেন জেমস। আগামী ৪ অক্টোবর তিনি গাইবেন ফান্স প্রবাসী বাঙালি আয়োজিত কনসার্টে।

jamesএক নজরে জেমস
জেমসের জন্ম নওগাঁয় হলেও তবে তিনি বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রামে। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারি, যিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সঙ্গীত জেমসের পছন্দের হলেও তার পরিবার তা পছন্দ করত না। তাই সঙ্গীতের নেশায় তিনি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।

চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং নামক একটি বোর্ডিং-এ তিনি থাকতে শুরু করেন। সেখানে থেকেই তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার শুরু হয়।

কিছু বন্ধুদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফিলিংস’ নামক একটি ব্যান্ড এবং ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও কন্ঠদাতা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন।

ফিলিংস এর মাধ্যমে তিনি প্রথমে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি নগর বাউল নামে ব্যান্ড দল গঠন করেন। তিনি নগর বাউল এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম সাইকিডেলিক রক শুরু করেন। গিটার বাজানোতেও তিনি দারুণ পটু।

তিনি নগরবাউল ব্যান্ডের মূল ভোকাল ও গিটারিষ্ট হলেও তিনি মূলত তার সলো ক্যারিয়ারকেই বেশী গুরত্ব দেন।

অনেক গীতিকার তার জন্য সঙ্গীত রচনা করেছেন। যাদের মধ্যে কবি শামসুর রহমান, প্রিন্স মাহমুদ, শিবলি উল্লেখযোগ্য।

গায়কজীবনের প্রথম দিকে তিনি জিম মরিসন, মার্ক নফলার এবং এরিক ক্লাপটনের মত সঙ্গীত শিল্পীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

১৯৮৭ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম অ্যালবাম “স্টেশন রোড” মুক্তি পায়। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম “অনন্যা”।

বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতে কাজ করার কারণে পশ্চিম বঙ্গেও খুব জনপ্রিয় জেমস। সেই সূত্রে ২০০৪ সালে বাঙালি সঙ্গীত পরিচালক প্রিতমের সাথে মিলিত হন তিনি।

২০০৫ সালে বলিউডের গ্যাংস্টার নামক একটি চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া “ভিগি ভিগি” গানটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় তা বলিউড টপচার্টের শীর্ষে ছিল। ২০০৬ সালে তিনি ও লামহে নামক চলচ্চিত্রে “চল চলে” গানে কন্ঠ্য দেন। ২০০৭ সালে তিনি লাইফ ইন এ মেট্রো চলচ্চিত্রে আবারও প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান দুইটি হল রিশতে এবং আলবিদা (রিপ্রাইস)। সর্বশেষ তিনি প্লেব্যাক করেছেন ওয়ার্নিং নামক চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া বেবাসি গানটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

জেমস ২০০০ সালের প্রথম দিকে পেপসির একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে অংশগ্রহন করেন। এটিই ছিল তার কাজ করা প্রথম বিজ্ঞাপন চিত্র। এই বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রচার করা হয়। এরপর তিনি ২০১১ সালে এনার্জি ড্রিংক ব্ল্যাক হর্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করেন।

বলিউড চলচ্চিত্র লাইফ ইন এ মেট্রোর কিছু অংশে জেমসকে দেখা যায়। যেখানে তিনি একটি ব্যান্ডের সদস্য চরিত্র কিছু অভিনয় করেন।

২০১৩ সালে ওয়ার্নিং চলচ্চিত্রের বেবাসি গানের ভিডিও চিত্রেও কাজ করেন জেমস। সেখানে তিনি নিজের গাওয়া গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়েছেন।

জেমস গাজী আহমেদ শুভ্রর সাথে রেড ডট এন্টারটেইনমেন্ট নামক একটি প্রডাকশন হাউস পরিচালনা করেন। এই প্রডাকশন হাউস ২০১১ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি ভিডিও বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরি করে।

রেড ডট এন্টারটেইনমেন্ট প্রচুর রিয়ালিটি শো প্রযোজনা করেছে। এর মধ্যে দ্য রকস্টার-২, লাক্স চ্যানেল-আই সুপারস্টার, কে হতে চায় কোটিপতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রেড ডট টেলিভিশন বিজ্ঞাপন চিত্রও নির্মাণ করে।

জেমসের প্রথম স্ত্রীর নাম রথি। ২০০২ সালে তারা আলাদা হয়ে যান এবং জেমস বিয়ে করেন বেনজির সাজ্জাদকে।  যার সাথে ১৯৯৯ সালে একটি কনসার্টে তার প্রথম সাক্ষাত হয়। জেমসের (জান্নাত ও জাহান নামে দুই মেয়ে এবং দানেশ নামে একটি ছেলে রয়েছে।

২০০২ সালে জেমস তার দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজির সাজ্জাদকে বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বিমানবন্দরে অপ্রাপ্তবয়ষ্কাকে বিয়ের মামলায় গ্রেপ্তার হন। মামলাটি ঠোকেন বেনজিরের বাবা। পরে বেনজির নিজেকে প্রাপ্তবয়ষ্ক প্রমাণ করলে জেমস কারাগার থেকে মুক্তি পান।

জেমসের অ্যালবামের মধ্যে ফিলিংস ব্যান্ড থেকে বেরিয়েছে- স্টেশন রোড (১৯৮৭), জেল থেকে বলছি (১৯৯০), নগর বাউল (১৯৯৬), লেইস ফিতা লেইস (১৯৯৮), কালেকশন অফ ফিলিংস (১৯৯৯)। নগর বাউল ব্যান্ড থেকে বেরিয়েছে, দুষ্টু ছেলের দল (২০০১) ও বিজলি।

জেমসের সলো অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে, অনন্যা (১৯৮৮),  পালাবি কোথায় (১৯৯৫), দুঃখিনী দুঃখ করোনা (১৯৯৭), ঠিক আছে বন্ধু (১৯৯৯), আমি তোমাদেরই লোক (২০০৩), জনতা এক্সপ্রেস (২০০৫), তুফান (২০০৬) ও কাল যমুনা (২০০৯)।

হিন্দি একক সঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে, ভিগি ভিগি (২০০৫, গ্যাংস্টার), চল চলে (২০০৬, ও লামহে), আলবিদা (রিপ্রাইস), রিশতে (২০০৭, লাইফ ইন এ… মেট্রো) ও বেবাসি (২০১৩, ওয়ার্নিং ৩ডি)। সূত্র: উইকিপিডিয়া

শেয়ার করুন