বিএসটিআই : জুলুমের হাতিয়ার

প্রকাশিত

গোলাম মাওলা রনি : আমার বাসা থেকে একটু এগোলেই মিরপুর রোড। সেই রোডের সাইন্স ল্যাবরেটরির ঠিক উল্টো দিকে ধানমন্ডির এক নম্বর সড়ক শেষে যে ওভারব্রিজটি রয়েছে, সেখানে আমি প্রায় সময়ই ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করি। একদিন বিকেলে হাঁটতে গিয়ে জনৈক যুবকের সাথে পরিচিত হলাম। অসম্ভব বিনয়ী ও বেশভূষায় পাক্কা মুসল্লি যুবকটি জানালেন যে, ব্রিজের গোড়ায় তার একটি ফার্মেসি রয়েছে। আমাকে বলতে গেলে জোর করেই তার দোকানে নিয়ে গেলেন। বেশ বড়সড় দোকান। ১০-১২ জন কর্মচারী এবং দোকানভরা ২০-২৫ জন কাস্টমার দেদার কিনছেন দেশী-বিদেশী ওষুধসহ অন্যান্য কসমেটিকস ও শিশুখাদ্য। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি বুঝলাম, যুবক তার চার-পাঁচজন ভাই নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন এবং ওই তল্লাটে তাদের দোকানের বেশ নামডাক রয়েছে। দোকানের মালিক-কর্মচারীদের প্রায় সবাই দাড়ি-টুপিধারী এবং তাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও বেচাকেনার ধরন আমাকে যারপরনাই মুগ্ধ করল। আমি সেদিন থেকে ধানমন্ডি ফার্মেসির একজন নিয়মিত ক্রেতা হয়ে গেলাম।

পরিবারের ওষুধপত্র, ফুড সাপ্লিমেন্ট, দুধ ও অন্যান্য শিশুখাদ্য কেনার জন্য আমি প্রায়ই ধানমন্ডি ফার্মেসিতে যেতাম। দোকানের মালিক-কর্মচারী সবাই আমাকে হাসিমুখে স্বাগত জানাতেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করতেন অন্যদের চেয়ে একটু বেশি ডিসকাউন্ট দিতে। আমার ছেলেমেয়েরাও উৎসাহ বোধ করত আমার সাথে সেখানে যাওয়ার জন্য। কারণ, মালিকদের কেউ না কেউ সব সময় দোকানে উপস্থিত থাকতেন এবং আমার ছেলেমেয়েদের ছোটখাটো উপহার দিয়ে তাদেরকে খুশি করার পাশাপাশি আমাকেও সম্মানিত করতেন। আমি সেখান থেকে পছন্দমতো দ্রব্যসামগ্রী কিনতাম এবং সন্তুষ্টচিত্তে ফিরতে ফিরতে দোকানির জন্য দোয়া করতাম।

গত ১৫ আগস্ট ২০১৫ সালের তৃতীয় প্রহরে আমি ধানমন্ডি ফার্মেসিতে গেলাম মায়ের জন্য কিছু ওষুধ ও দুধ কিনতে। আমার মাকে আমি দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিতভাবে ওমেগা-৩ ফিশঅয়েল এবং সেনট্রাম নামের একটি মাল্টিভিটামিন ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়াচ্ছি। সাথে আমেরিকা বা ইউরোপে প্যাক করা নিডো ব্র্যান্ডের দুধও কিনি মায়ের জন্য। এসব পণ্যের জন্য ধানমন্ডি ফার্মেসির প্রতি আমার বিশ্বাস ও আস্থার কারণে আমি সবার আগে ওই দোকানে ঢুঁ মারতাম। আমাকে দেখে দোকানের মালিক-কর্মচারী এবং কাস্টমাররা শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। আমি যতবার দোকানে গিয়েছি, ততবারই দেখেছি পুরো দোকানভর্তি মালামাল এবং সেগুলো কেনার জন্য কাস্টমার গিজগিজ করছে। ঘটনার দিন আমি দোকানে ঢুকেই বড় রকমের হোঁচট খেলাম। আমি ছাড়া অন্য কোনো কাস্টমার নেই। দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে মাত্র দু-তিনজন মনমরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। বেশির ভাগ লাইট বন্ধ। এ কারণে মালিক উদাস মনে বসে আছেন আর হা-হুতাশ করছেন। আমি দোকানটির তাকিয়াগুলোর দিকে তাকালাম এবং দেখলাম- অনেকগুলো তাকিয়া বেশ ফাঁকা।

আমি অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- ব্যাপার কী! তারা যা জানালেন, তা শুনে আমার তো রীতিমতো ভীমরতি খাওয়ার মতো অবস্থা। স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো সরকারি সংস্থা কর্তৃক এমনতরো জুলুম সংঘটিত হতে পারে তা আমি ইতঃপূর্বে কল্পনাও করতে পারতাম না। চোর-ডাকাত, গুণ্ডা-বদমাশ রাতের আঁধারে কিংবা নির্জন প্রান্তরে মানুষের সর্বস্ব লুট করে এবং সুযোগ পেলে নারী ধর্ষণ, পুরুষ লাঞ্ছনা ও হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটায়। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে শত মানুষের সামনে দুর্বৃত্তপনা করার ধৃষ্টতা এখনো কথিত মন্দলোকগুলো দেখাতে না পারলেও সরকারি সংস্থার লোকজন কিন্তু ঠিকই পারছে। এত দিন পুলিশের চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম, খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, জুলুম-অত্যাচারের কাহিনী শুনেছি। অন্য দিকে বন্দর, কাস্টমস, আয়কর বিভাগ, রাজউক, সিটি করপোরেশন, শিক্ষা বিভাগ, ভূমি অফিসসহ অন্যান্য সরকারি অফিসের ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, জুলুম ও অত্যাচারের মর্মান্তিক কাহিনীর খবর আমরা অহরহ পত্রিকায় পাঠ করি এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে নিজেদের ঘৃণা উদগিরণের পাশাপাশি লানত চেয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। সরকারি অফিসগুলোর বাড়াবাড়ি ও দুর্বৃত্তপনার অতীতের সব রেকর্ড মনে হয় বিএসটিআই নামক প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা সাম্প্রতিককালে ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। কিভাবে ভঙ্গ হচ্ছে তা বলার আগে এ প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কিছু বলে নিই।

বিএসটিআই নামক সরকারি প্রতিষ্ঠানটি মূলত শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা, যা কি না কখনোসখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হয়েও কাজ করে। একজন মহাপরিচালকের অধীন সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় উৎপাদিত খাদ্যপণ্য এবং মানুষের ব্যবহার্য কিছু রাসায়নিক পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এ সংস্থাটির প্রধান দায়িত্ব। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাওয়ার আগে তাদের উৎপাদিত পণ্যের নমুনা বিএসটিআইতে জমা দিয়ে পণ্যটির গুণগতমান সম্পর্কে একটি সার্টিফিকেট অর্জন করে। পরে পণ্যটি বাজারজাত করার সময় প্রতিষ্ঠানটি তাদের গুণগতমান বজায় রাখল কি না তা নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকি করার দায়িত্ব বিএসটিআইর। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানটি আরো কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়েছে। কোনো আমদানিকারক যদি কোনো খাদ্যপণ্য ও ব্যবহার্য রাসায়নিক পণ্য বিশেষত কসমেটিকস আমদানি করে বাংলাদেশে বাজারজাত করতে চায়, তবে তাদেরকেও বিএসটিআইর অনুমোদন নিতে হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএসটিআই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করেছে, এমন কথা বাংলাদেশের কোনো পাগলেও যেমন বলবে না, তেমনি কোনো পাগলের চেয়ে অধম কেউ বললেও মানুষ তো দূরের কথা- ছাগলেও বিশ্বাস করবে না। বরং আমরা যা জানি তা হলো- টুপাইস ব্যয় করলে বিএসটিআই থেকে যেকোনো পণ্যের জন্য সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। ফলে করিমন মার্কা জর্দা, বিলাই মার্কা গুল, কইতর মার্কা সেমাইতে বিএসটিআইর সিল দেখা যায়। বিএসটিআই নিজেও জানে না যে, তাদের কর্মপরিধি কতটুকু এবং ঠিক কিভাবে তাদের কাজ করা উচিত। কোনো মানুষ যদি তাদের কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তাদের বাথরুম, রান্নাঘর, খাবারের রুম, মালখানা অর্থাৎ গুদামঘর দেখে, তবে প্রথমেই সুপারিশ করবে- প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হোক অথবা তাদের নিজেদের মান আগে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করা হোক; তারপর তারা না হয় অন্যদের মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাজ করবে।

বিএসটিআইর মতো দু’টি সংস্থা অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এবং ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেশনের কাজকর্ম সম্পর্কে সামান্য ধারণা দেয়া যাক। এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান, গুণ ও সুনাম রয়েছে দুনিয়াজোড়া। সমগ্র পৃথিবীর ভোক্তারা এ দুই প্রতিষ্ঠানের সার্টিফাইড পণ্য সম্পর্কে আজ পর্যন্ত আপত্তি তুলতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দু’টি এমন পদ্ধতিতে কাজ করে, যাতে করে ভোক্তারা পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে তাদের সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করতে পারে। প্রতিটি পণ্যের গায়ে একটি বারকোড থাকে। এফডিএ-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে ওই বারকোড দিয়ে সার্চ দিলেই পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত চলে আসবে। অন্য দিকে এফডিএ সার্টিফাইড পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে, যে কেউ প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ উৎপাদনকারীর পরিবর্তে সরাসরি এফডিএর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারে। এসব কারণে তাবৎ দুনিয়ার সব কর্তৃপক্ষ এবং ভোক্তা এফডিএর সার্টিফাইড পণ্য নিশ্চিন্তে গ্রহণ করে থাকে।

বিএসটিআই কেবল একটি সার্টিফিকেট দিয়েই খালাস। পণ্যটির গুণগতমান, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিএসটিআই সার্টিফাইড কোম্পানিগুলো কোনো বারকোড ব্যবহার করে না। পণ্যের সংখ্যা, পরিমাণ, উৎপাদনের তারিখ ইত্যাদির কোনো তথ্য বিএসটিআইর অফিস কিংবা ওয়েবসাইটে থাকে না। ফলে পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশ বিএসটিআইর সার্টিফিকেট গ্রহণ করে না। কেবল বাংলাদেশের মধ্যে সরকারি কর্তৃত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সার্টিফিকেট প্রদানের নামে দুর্নীতির একটি মহাসিন্ধু তৈরি এবং ভোগদখল করে আসছিল। তাদের নাকের ডগায় সারা দেশে খাদ্যে ভেজাল, খাদ্যে ফরমালিন মেশানো, মরা মুরগি, মরা গরুর গোশত বিক্রি, ধাতু বৃদ্ধি, মোটা বা চিকন হওয়ার ভেজাল এবং রূপযৌবন বাড়ার প্রসাধনীর নামে জীবন সংহারকারী পণ্যসামগ্রী সারা দেশে বিক্রয় ও বিপণন হচ্ছে। তারা মোবাইল কোর্টের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী লোক দেখানো কিছু রঙ্গরস মাঝে মধ্যে করত, কিন্তু দুর্বৃত্তপনার সাহস দেখায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সরকারের অন্যান্য বিভাগের সাথে পাল্লা দিয়ে তারা ঘুষ-দুর্নীতির পাশাপাশি এমন জাহেলি যুগের জুলুম শুরু করেছে, যা দেখলে আঁতকে না উঠে পারা যায় না। ধানমন্ডি ফার্মেসিতে তাদের পরিচালিত তথাকথিত অভিযান সম্পর্কে বললেই বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ঘটনার দিন ছিল ১৪ আগস্ট, শুক্রবার। জুমার নামাজের ঠিক পরপরই ২০-২৫ জনের একটি দঙ্গল বহর নিয়ে বিএসটিআইর কর্তারা ধানমন্ডি ফার্মেসিতে ঢুকলেন। দলটিতে বিএসটিআইর কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও আরো ছিল ১০-১২ জন পুলিশ। একজন কর্মকর্তা বাজখাইগলায় ধমক মেরে বললেন- এটা বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট এবং তিনি হলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি ধমকের সুরে দোকানের সব কাস্টমারকে বের হয়ে যেতে বললেন। তারা বের হয়ে গেলে কর্মকর্তারা পুলিশের একাংশ নিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং পুলিশের অপর গ্রুপটিকে দরজার বাইরে পাহারা দিতে বললেন।

কর্মকর্তারা দোকানটির মালিক ও কর্মচারীদেরকে এক জায়গায় এনে সারিবদ্ধভাবে এমনভাবে দাঁড় করালেন, যেন তাদেরকে এক্ষুনি গুলি করে মারা হবে। তারা মালিক-কর্মচারীদের মোবাইল জোর করে কেড়ে নিলেন এবং দোকানটির ল্যান্ডফোনটি বিচ্ছিন্ন করলেন। এর পর শুরু করলেন তল্লাশির নামে তাণ্ডব। ভয় সৃষ্টির জন্য হুমকি-ধমকি এবং মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য তাকিয়ায় সাজানো মালামালগুলো ফেলে দিলেন। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এফডিএ সার্টিফাইড কয়েকটি প্রাণরক্ষাকারী দুর্লভ ওষুধ, নামকরা কোম্পানির পেস্ট, ক্রিম ও সুইজারল্যান্ডে প্যাক করা নিডোর দুধ একত্র করে হুঙ্কার ছাড়লেন- এগুলো কী? এগুলোতে তো বিএসটিআইর সার্টিফিকেট নেই।

দোকানিরা ভয়ার্তস্বরে জানালেন- প্রতিটি পণ্য তারা আমেরিকা-ফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন তারিখ অনুযায়ী ব্যবহারের উপযোগী ছিল, অর্থাৎ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি। পণ্যগুলোর সবই এফডিএ অনুমোদিত এবং বাংলাদেশের নামকরা ডাক্তারেরা তাদের প্রেসক্রিপশনে পণ্যগুলোর নাম লেখেন। জীবনরক্ষার জন্য এসব পণ্য খুবই দরকার এবং বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এগুলো উৎপাদন করতে পারে না। অন্য দিকে কোনো আমদানিকারক বৃহত্তর পরিসরে পণ্যগুলো বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করে না। মূলত লাগেজ পার্টির কাছ থেকে জীবনরক্ষাকারী এসব ওষুধ ও পণ্য কিনে বাংলাদেশী রোগীদের সেবা দেয়া হয়। দোকানিদের কথা শুনে কর্মকর্তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন। বললেন- চুপ! একদম চুপ! আর একটি কথাও নয়- কথা বললেই সবাইকে ছয় মাসের জেল ও জরিমানা করা হবে এবং দোকানের সব মালামাল বাজেয়াপ্ত করে দোকানটি সিলগালা করে দেয়া হবে।
কর্মকর্তাদের কথা শুনে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা একদম বোবা হয়ে গেলেন। ভয়ে তাদের গলা শুকিয়ে গেল। বুক ধড়ফড় শুরু হলো। দুর্বলচিত্তের দু-তিনজন কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেলেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত বিএসটিআইর কর্মকর্তারা ভারি মজা পেলেন এবং তাদের পরবর্তী জুলুম পরিচালনার জন্য আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠলেন।

 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৎক্ষণাৎ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেন। তারপর বললেন- জরিমানা দেয়াই উত্তম। কারণ, কারাদণ্ডে তাদের খরচাপাতি অনেক বেশি হবে। ভুক্তভোগীরা ভয়ের চোটে নগদ এক লাখ টাকা দিয়ে দিলেন। এরপর শুরু হলো দ্বিতীয় পর্ব- পৃথিবীর নামী-দামি ব্র্যান্ডের বহুলপ্রচলিত ওষুধ যেমন- সেনট্রাস, নিডো দুধ, বাহারি কসমেটিকস যথা- শ্যাম্পু, বডি লোশন, ক্রিম, ফেসওয়াশ, বিউটি ক্রিম, বডি ওয়াশ, গ্লুকোজ, মধু ইত্যাদি পণ্য আলাদা করে বস্তাবন্দী করা হলো। উপস্থিত পুলিশ এবং অন্য কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো ও পছন্দমতো পণ্যসামগ্রী খুঁজে বের করলেন এবং আলাদা আলাদা বস্তায় ভরলেন। তাদের চোখমুখ খুশিতে জ্বলজ্বল করছিল। তাদের ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছিল- লুটের মাল দিয়ে তারা হয়তো অনেক দিন পর তাদের প্রিয়জনকে নিশ্চিতভাবে খুশি করে ফেলবেন। দ্বিতীয় পর্বের সফল পরিসমাপ্তির পর তাড়াহুড়া করে তৃতীয় পর্ব শুরু করলেন। অর্থাৎ মালসামান নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেন।

দোকানিরা হাপিত্যেশ করতে করতে প্রাথমিক হিসাব কষে বের করে ফেললেন যে, প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিয়ে যাওয়া মালামাল কেন নেয়া হলো, কোথায় নেয়া হলো এবং কোন কোন মাল কী পরিমাণ নেয়া হলো তা একটি সিজার লিস্টের কথা বলার মতো সাহস এবং মনোবল হারিয়ে দোকানিরা মনে মনে আইয়ামে জাহেলিয়াতের কথা কল্পনা করতে লাগলেন।-গােলাম মাওলা রনির ফেইসবুক হতে নেয়া…

শেয়ার করুন