বিমসটেক এফটিএ ঝুলেই রইল

প্রকাশিত

কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ আগামী বছরের প্রথমার্ধে বিমসটেক মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও এর সম্পূর্ণ আপস-প্রক্রিয়া শেষ না হবার কারণে শুরু করার তারিখ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ মাসে বিমসটেকের মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠনের চূড়ান্ত আলোচনা থাইল্যান্ডে শুরু হলে বৈঠকে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা ও পণ্যের শুল্ক হ্রাস সুবিধা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন ‘কোন দেশ কোন পণ্যে কী সুবিধা পাবে এটি ২০১১ সালে ঠিক করা হয়েছিল। তখন কথা ছিল মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের কার্যক্রম ২০১২ সালে শুরু হবে। কিন্তু তা করা সম্ভব হয়নি।’

ছয় ডিজিটের এইচএস কোডে প্রায় ৫,৬০০টি পণ্য রয়েছে এবং ২০১১ সালে সবদেশ একমত হয়েছিল যে ভারত, থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকা ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এর ১০ শতাংশ পণ্যের শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের মধ্যে তারা ৪৮ শতাংশ পণ্যের শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে এবং ১৯ শতাংশ পণ্যের শুল্ক হ্রাস করবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এর ফলে ২০১১ সালে সম্পাদিত গোটা প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সবদেশ একমত হয়েছে ডিসেম্বরের মধ্যে তারা কোন পণ্যের কী সুবিধা হবে তার তালিকা তৈরি করবে।’

যদি ডিসেম্বরের মধ্যে সবদেশ এ তালিকা তৈরি করতে পারে তবে সামনের বছর আবার সব সদস্য রাষ্ট্র আলোচনায় বসে এটি চূড়ান্ত করবে।

থাইল্যান্ডের এ বৈঠকে অন্য একটি দেশ মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠনের জন্য কাস্টমস সংক্রান্ত চুক্তিটির পুনর্বিবেচনার দাবি করে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘ আলোচনার পর সবাই একমত হয় যে এটি কাস্টমস সংক্রান্ত চুক্তিটির কোনও পরিবর্তন হবে না কিন্তু মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল কার্যক্রম শুরু হবার এক বছর পর প্রয়োজন অনুযায়ী এ সংক্রান্ত একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করা হবে।’

কর্মকর্তাটি বলেন নতুন জটিলতার কারণে বিসমটেক মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল কার্যক্রম কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বিমসটেক মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠনের জন্য ২০১১ সালে সদস্যদেশগুলো এর খসড়া চূড়ান্ত করে।

বিমসটেকের সদস্যদেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, নেপাল, মিয়ানমার ও ভুটান। দেশগুলোতে ১৫০ কোটি মানুষ বাস করে এবং মোট অর্থনীতির পরিমাণ ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

বিমসটেক মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু হলে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বর্তমান পর্যায় থেকে ৭৭ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন