মানবিক সেবায় বাংলাদেশ হবে একটি মডেল দেশ–অগ্রযাত্রা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার থেকে থেকে:বেসরকারি এনজিও সংস্হা “অগ্রযাত্রা” সহ বেশ কয়েকটি এনজিওকে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় হতবাক সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় ভাল উন্নয়ন সংস্হাগুলো নিজেদের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন কালে সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে সুনাম, খ্যাতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা। তারা শতভাগ সফলতার সাথে কাজ করেন এটা প্রশাসন, দাতা সংস্হা সহ এলাকার জনসাধারণ অবগত। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা সভাপতি নীলিমা আক্তার চৌধুরী দেশের অবহেলিত জনগনের ভাগ্যন্নোয়নে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নারীদের হাতে কলমে কাজ শেখানোর ফলে দেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের নানা পদকে ভুষিত হয়েছেন। কক্সবাজার জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যন্নোয়নে বিশেষ ভুমিকা রাখায় জনগনের কাছে ও জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। দেশি- বিদেশী দাতা সংস্হা গুলো চুক্তিমাফিক কাজ সম্পন্ন করায় অগ্রযাত্রা সংস্হার মাধ্যমে কাজ করতে ব্যাপক আগ্রহী। দেশের যে কোন দুর্যোগে সব সময় ক্ষতিগ্রস্হ এলাকার জনগনের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে জনগনের হ্নদয়ে আসন করে নিয়েছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা। ধীরে ধীরে আত্নমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখে উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও সুনাম ছড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে সম্প্রতিক রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিয়ে কাজ করে ভুয়সী প্রসংশা পায় উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন বিভিন্ন এনজিও সংস্হার কর্মকান্ড তদারকি কালীন সময়ে অগ্রযাত্রা সংস্হার কার্যক্রম গুলো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু কি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের কাজের সরেজমিন তদারকি করেন সিইসি সহ কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও উখিয়া উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্হা গুলো। তারা ও যথাযথ কাজ করায় অগ্রযাত্রার কাজের প্রশংসা করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করে সুনাম কুড়িয়ে এনেছেন যে কয়েকটি এনজিও তাদের শীর্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা। সরেজমিন পরিদর্শন কালে উখিয়ার হাকিমপাড়া ও বালখালী ক্যাম্প এলাকার কাজ করছেন এমন একাধিক গোয়েন্দা সংস্হার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে “টাইমস টোয়েন্টিফোর ডট নেট” কে জানান, এখানে কয়েকশত সংস্হা কাজ করেন। কিন্তু ভাল কাজ করে এমন হাতেগুনা কয়েকটি এনজিও’র মধ্যে অগ্রযাত্রা অন্যতম। তাদের কাজগুলো অত্যন্ত সততার সাথে করে থাকেন। হাকিম পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করেন এমন একজন রোহিঙ্গা শরনার্থী হাসিম আলী। তিনি জানান, বৌদ্ধ শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে এদেশে এসে প্রথমে ক্যাম্পে কষ্ঠের মধ্যে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।খোদার অশেষ মেহেরবানিতে হাকিমপাড়া ক্যাম্পে আমাদের মতো শত শত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাথা গুজার ঠাই করে দেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা। তারা শুধু আবাসনের ব্যবস্হা করেছেন তা নয়। খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা স্বাস্থ্য সেবাসহ প্রতিটি সমস্যায় এগিয়ে এসেছেন অগ্রযাত্রা। কিন্তু এমন একটি উন্নয়ন সংস্হা যখন স্বগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে মানবতার সেবার মধ্য দিয়ে, ঠিক তখনি অগ্রযাত্রার এগিয়ে যাওয়া কে থমকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেন একটি মহল। তারা এনজিও ব্যুরোর একটি তালিকায় সংশ্লিষ্ট মহলকে ভুল বুঝিয়ে অগ্রযাত্রা’র মতো একটি সফল ও সুনামখ্যাত উন্নয়ন সংস্হার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এবং সাংবাদিক মহলকে বিভ্রান্ত করে সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় এই সুনামখ্যাত অগ্রযাত্রা’র নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা অগ্রযাত্রা’র দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন সহ প্রশাসন ও জনসাধারন বিভ্রান্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা অগ্রযাত্রা সভাপতি নীলিমা আক্তার চৌধুরী জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২৫শে আগষ্ট ২০১৭ইং থেকে বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে যুগান্তরকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মহামান্য প্রধানমন্ত্রীর এই মহতি ও মানবিক উদ্যেগের অংশীদার হিসাবে বাস্তুহারা রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে মানবিক সহযোগিতার আওতায় এনে সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারী সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা ”অগ্রযাত্রা” শুরু থেকেই নিজ উদ্যেগে, বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে জরুরী খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম, সম্ভাব্য পাহাড় ধ্বস প্রতিরোধে আশু করণীয়, বৃক্ষ রোপন কর্মসুচীসহ ইত্যাদি কার্যক্রম বিভিন্ন রোহিংগা ক্যাম্পে চলমান রয়েছে । অগ্রযাত্রার এই অব্যাহত কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের সন্মানিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতাদের পরিদর্শন ও অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সরকারি, বেসরকারি ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিগন আমাদের কার্যক্রমে ব্যাপক সন্তুষ্টি প্রকাশ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, অগ্রযাত্রার নিকট দেশের ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সন্মান সর্বাগ্রে, আমরা দেশের স্বার্থে সারা বিশ্বকে জানাতে চাই যে, বাংলাদেশ মানবিক সেবা প্রদানেও একটি মডেল দেশ । অগ্রযাত্রা টিম সেই লক্ষ্যে শতভাগ স্বচ্চতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে । আমরা অতীতের সমস্ত কর্মকান্ড শতভাগ স্বচ্চতার ভিত্তিতে করেছি। এতে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সবাই সন্তুষ্ট। তারা অগ্রযাত্রা’র কর্মকান্ডগুলো দেখে মডেল কাজ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অগ্রযাত্রা সেবায় বিশ্বাসী। প্রতারনা অগ্রযাত্রা’র নীতি নয় উল্লেখ করে তালিকায় অগ্রযাত্রার নাম অন্তভুক্তি কে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সহসা এই সমস্যা সমাধান হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।