মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ওঠার সম্ভাবনা

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে উঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সোমবার ডিসিসিআইয়ের এক প্রতিক্রিয়ায় এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুৎ-এর মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রারণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সরকারের কাছে এ সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার দাবি জানায় ঢাকা চেম্বর।

ডিসিসিআই মনে করে, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যে নানমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশীয় বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ধারণ করা রয়েছে। উপরন্ত এলপিজি গ্যাসের মূল্য আরোও বৃদ্ধি সমাজের নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির মানুষের জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং এ শ্রেণির মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির নানামুখী কর্মকাণ্ড মেটানোর জন্য শিল্প-কারখানা সমূহে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি, তদুপরি সার্বিকভাবে এ মূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায় ব্যয় আরোও বাড়বে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাকে গতিশীল রাখার জন্য সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এ দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করবে।

ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে আমাদের টেক্সটাইল, তৈরি পোষাকসহ অন্যান্য খাতসমূহ ইতোমধ্যে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে, তথাপি মূল্য বৃদ্ধির ফলে এ খাতগুলোর অগ্রগতির ধারা ব্যাহত হবে বলে মনে করে ডিসিসিআই।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ-এর মূল্য বৃদ্ধির ফলে বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং ঢাকা চেম্বার কর্তৃক প্রণীত ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে, যা কারোই কাম্য নয়।

শেয়ার করুন