যানজট বাড়াচ্ছে খানাখন্দের মহাসড়ক

প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জ থেকে হাসান মজুমদার বাবলু : সড়কের বিভিন্ন স্থানে  গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে যানজট দূর করতে বেগ পেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল একটু বেশি। প্রতিটি গণপরিবহন ছিল যাত্রীতে ঠাসা। সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে ঘরমুখো মানুষ ব্যাগ ও মালামাল নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে, বাস স্টপেজে কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। দুপুর নাগাদ যানজট ঢাকার দিকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপসী পর্যন্তও যানজট দেখা দেয়।

সিলেট ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গণপরিবহনগুলো মূলত নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড হতে শিমরাইল মোড় হয়ে কাঁচপুর সেতুতে ওঠে। সেতুর পূর্ব ঢালে গিয়ে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভাগ হয়ে যায় যানগুলো।  দুই মহাসড়কের যান একসঙ্গে আসার কারণে সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় সবচেয়ে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়।

এই দুই স্থানে আবার বিভিন্ন যানবাহনের কাউন্টারও রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাউন্টার ও বাস স্টপেজ হলো শিমরাইলে। এ স্থানে সড়কের মধ্যে এলোপাতাড়ি গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর কারণে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

তাছাড়া কাঁচপুর সেতুর পূর্ব ঢালেই যানবাহনের গতি সবচেয়ে কম। এছাড়া সেখানে বড় বড় কয়েকটি গর্ত থাকায় যানগুলো দ্রুত চলতে পারে না। ফলে যানবাহনের চাপ সেতুর পশ্চিম দিক শিমরাইলেও চলে আসে। ধীরে ধীরে সেটা সাইনবোর্ড পর্যন্ত তা লম্বা হয়।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায়ও গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে গাজীপুর-মদনপুর তথা এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গাজীপুর ও এর আশপাশ এলাকার চট্টগ্রামগামী যানগুলো সাধারণ এশিয়ান হাইওয়ে দিয়েই চলাচল করে। এছাড়া মদনপুর হতে আড়াইহাজার দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকার যান চলাচল করে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জাকারিয়া জানান,  ঈদের সময় মহাসড়ক দিয়ে অন্তত ৫০ লাখ লোক আসা যাওয়া করে। এজন্য মহাসড়কে গাড়ির চাপও থাকে অনেক বেশি।

এ ব্যাপারে শিমরাইলে দায়িত্বরত নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোল্লা তাসলিমউদ্দিন জানান, ‘কাঁচপুর সেতুর পূর্ব ঢাল, মদনপুর ও রূপগঞ্জের কয়েকটি স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন বেশ ধীরগতিতে ওইসব এলাকা অতিক্রম করছে। কখনও কখনও ভাঙা স্থানে গাড়ির চাকা আটকে বিকল হয়ে যাওয়ায় যানজট তীব্র হচ্ছে।‘

তিনি আরও জানান,  ‘শিমরাইলে যানজট দূর করতে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ,  হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে দুই শিফটে ৩০ জন করে ৬০ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। তবুও যানজট নিরসনে বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। তার ওপর বৃষ্টি সেই কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে সড়কে খানাখন্দ না থাকলে যানজট এত হতো না।’

সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী একে এম সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন,  ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্পটে তারা সড়ক সংস্কার করেছেন। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

শেয়ার করুন