রাজধানীর গুলশান থেকে গয়েশ্বর ‘আটক’

মুক্তমন রিপোর্ট, ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটকের অভিযোগ করেছে তার দল ও পরিবার। তবে অভিযোগ স্বীকার করছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ফেরার পথে নয়টার দিকে গয়েশ্বরকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।
বিএনপি নেতার পুত্রবধূ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় জানান, রাতে একটি কাজে গুলশান গিয়েছিলেন গয়েশ্বর। সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে গাড়ি থামিয়ে দুই জনের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় আবদুস সালাম কৌশলে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এখন ওনি কোথায় আছে তা জানি না।’
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে সামনে রেখে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।এই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বালানোর হুমকি এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। আর গয়েশ্বর গত দুই দিন আলোচনা সভায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হলে সরকার পতনের হুমকি দিয়েছেন গয়েশ্বর।
গতকাল মঙ্গলবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা শেষে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আটক দুই নেতাকে প্রিজন ভ্যান ভেঙে ছিনিয়ে নেয় নেতা-কর্মীরা। পরে বিএনপি ৬৯ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।
গয়েশ্বরের আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইউসুফ আলী বলেছে, ‘ওনারে ধরেছে কি না, আমি ঠিক জানি না।’
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা তাকে ধরিওনি, আর ধরার বিষয়ে জানিও না।’
গোয়েন্দা পুলিশ ধরতে পারে কি না-এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘যদি ওনারা তাকে ধরেও থাকে, আমাদেরকে জানানো হয়নি।’
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলমকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, আজকে (মঙ্গলবার) পুলিশের ওপর হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে আটক করা হয়েছে গয়েশ্বরকে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। পুলিশের কাছে তার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক অঙ্গন।এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সে মামলাটিরও বিচারিক কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। ৮ ফেব্রুয়ারির রায় নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে সারা দেশের মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছে। উৎকণ্ঠা হতো না যদি শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে রায় ঘোষণা না করতেন।’‘এরশাদ, রাঙ্গাও রায় ঘোষণা করেছেন। তারা মিষ্টির দোকানে ইতোমধ্যে অগ্রিম অর্ডারও দিয়ে রেখেছেন। তারা (আওয়ামী লীগ) বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে মোকাবেলা করবে বলেও অগ্রিম কথা বলছেন।’