রাজধানীর মিরপুরে জমজমাট জুয়ার আসর

মুক্তমন রিপোর্ট, ঢাকা : রাজধানীর মিরপুরের পাড়া মহল্লায় চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। তিন তাস, কাইট, হাজারী ও কেরামসহ বিভিন্ন আইটেমের জুয়ার আসরে লাখ লাখ টাকার কারবার চলছে। ক্লাব, রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের অফিস, সমিতির অফিস, মার্কেট ও দোকান ঘরে এসব আসরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, এলাকার মাস্তান, পেশাদার ছিনতাইকারী, ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এমনকি দিনমজুরও অংশগ্রহণ করছে। কোনো কোনো এলাকায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদকের স্পট। চলছে নির্বিঘ্নে মাদক বেচাকেনা। উঠতি বয়সিরা জুয়া ও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে অবিভাবকরা উদ্বিগ্ন। আবার জুয়ার আসরকে ঘিরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। গত সোমবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে কাফরুল থানার এস.আই পুলকের নেতৃত্বে মিরপুর-১৩ নম্বরস্থ ইমান নগর এলাকার চিহ্নিত কয়েকটি জুয়া ও মাদকের আসরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছয় জনকে গ্রেফার করেছে।
জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, রূপনগর, পল্লবী ও শাহআলী থানা এলাকায় জুয়ার আসর বসে সন্ধ্যার পর। আবার কোনো কোনো সময় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই জুয়া চলে। কাফরুল থানার ১৩ নম্বরস্থ রোকেয়া টাওয়ার ও স্বর্ণালী টাওয়ারের সামনে এবং ওজিএসবি’র সামনে জুয়ার আসর বসে। ওয়ার্ড কমিশনার জামাল মোস্তফা গাড়ির ড্রাইভার সহিদুল ইসলাম ওইসব জুয়ার আসর থেকে সপ্তাহে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে। এইসব জুয়ার আসরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ছিনতাইকারী, ছিঁচকে চোর, পকেটমার, মলমপাটির সদস্য এমনকি দিনমজুররাও অংশ নেয়। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কারবার হয় এসব আসরে।
অপর একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর কাফরুল ও পল্লবী থানার এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে রাত গভীর হলেই বসছে লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসর। ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস, কাটাকাটি, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, চরকি রেমিসহ নানা নামের জুয়ার লোভ সামলাতে না পেরে অনেকেই পথে বসছেন। এতে পারিবারিক অশান্তিসহ সমাজে নানা ধরনের অসঙ্গতি বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা সর্বস্বান্ত হলেও জুয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আয়োজক চক্র। অথচ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও অভিযোগ রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তাদের ম্যানেজ করেই দিনের পর দিন চলছে এসব কর্মকান্ড।
মিরপুর ১৩ নম্বরের স্থানীয় লোকজন জানায়, রাজধানীর কাফরুল থানার ১৩ নম্বর, মিরপুর ১০ নম্বর ও ১৪ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত থেকে ওয়ার্ড কমিশনার জামাল মোস্তফার নামে চাঁদা তুলছে কাশেম। ফুটপাতের দোকানীরা চাঁদা না দিলে তাদের মারধর করে দোকান তুলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।