সাকা-মুজাহিদের রিভিউ শুনানির দিন নির্ধারণ আজ

প্রকাশিত

আদালত প্রতিবেদক : হত্যা, গণহত্যা দেশান্তর, ধর্মান্তর নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাদের দায়ে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন শুনানির দিন নির্ধারণ করার জন্য শুনানি হতে পারে আজ।

তার আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিএনপি-জামায়াতের এই দুই নেতার রিভিউ আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বার আদালতে এই আবেদন দুটির শুনানি হতে পারে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

ওই দিন দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, রিভিউ শুনানির তারিখ ঠিক করার জন্য আমরা দুটি আবেদন করেছি। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সময়ে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে কি-না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপিল বিভাগ চাইলে শুনানি করতে পারেন। তবে সেটা আদালতের ইচ্ছা।

এর আগে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাকা ও মুজাহিদের আইনজীবীরা পৃথক দুটি রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন করেন। গত ১ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক পৃথক দুই মৃত্যু পরোয়ানা পাঠায় কারাগারে। এর আগে এই দুই আসামির আপিল মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে বিচারিক আদালতে পাঠায়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত দুই আসামির লাল কাপড়ে মোড়ানো পরোয়ানা দু’টি এখন কারা কর্তৃপক্ষ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিস্টদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক। ৬৭ বছর বয়সী মুজাহিদ বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন, আর ৬৬ বছর বয়সী সালাউদ্দিন কাদের আছেন কাশিমপুর কারাগারে। পরোয়ানা কারা কর্মকর্তারা দুই ফাঁসির আসামিকে তা পড়ে শোনান। পরোয়ানার ভিত্তিতে রায় কার্যকরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দেয়া আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার এবং মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও রয়েছে।

এর আগে রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি। অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, গত ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর এবং গত ১৬ জুন মুজাহিদের আপিল মামলায় ট্রাইব্যুনালে দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকেই ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছেন আসামি সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ। সে হিসেবে তারা গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রিভিউ (পূর্ণবিবচেনার) আবেদন করেন। রিভিউ দায়ের করার পর দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।

সাকা চৌধুরী হলেন পঞ্চম ও মুজাহিদ হলেন চতুর্থ ব্যক্তি যাদের মামলায় আনা আপিলের পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা এ দুই আসামি মানবতাবিরোধী দায়ে চূড়ান্ত রায়েও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন।

২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও ভাঙচুরের এক মামলায় সাকা চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার হন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মযজাহিদ। পরে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আটক রাখার আদেশ দেয়া হয়। তখন থেকে কারাগারে আছেন এ জামায়াত নেতা।

শেয়ার করুন