সাবেক এমপিদের তালিকা তৈরির করবে ইসি

প্রকাশিত

বিশেষ সংবাদদাতা : বিগত ৯টি জাতীয় সংসদের সাবেক সব এমপির তালিকা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে। এজন্য স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় সংসদের এমপিদের তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নির্দেশে এ কাজটি করছে ইসির নির্বাচন শাখা। পাশাপাশি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটসহ সার্বিক ইতিহাসও সংরক্ষণের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সিইসি সম্প্রতি নির্বাচন শাখাকে একতরফা নির্বাচনে কতজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কতজন একাধিকবার নির্বাচিত এমপি রয়েছে তার সংখ্যা নির্ণয়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচিত এমপির নাম ও সংখ্যা রাখার কথা জানান তিনি। এছাড়া একাধিকবার নির্বাচিত এমপিদের পৃথক তালিকা করতেও বলা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের পর প্রণীত সংবিধানের অধীনে এখন পর্যন্ত ১০টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ বাহিনীর শীর্ষব্যক্তিরা গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্র দখলের নজির রয়েছে।

দেখা গেছে, ওই সরকারগুলোই নিজেদের ইচ্ছামত একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে যেনোতেনো নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। আবার ওই সব দলগুলোর নির্বাচন বর্জনেরও ইতিহাস রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি নির্বাচন বর্জন করেছে সাবেক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয় এবং এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করে।

২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অনেকে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এই নির্বাচনে এককোটি ভুয়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলো আন্দোলন শুরু করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই নির্বাচন বাতিল এবং সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দুইবছর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেন।

সর্বশেষ ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ কয়েকটি দল বর্জন করায় আওয়ামী লীগ ও জাপাসহ কয়েকটি দলের ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।

এছাড়া বিএনপির করা ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত আরেকটি সংসদ নির্বাচন রয়েছে। তবে বেশিদিন টেকেনি এ সরকার। তারা সরকার গঠন থেকে সংসদ সবমিলিয়ে ৬দিন ক্ষমতায় ছিল।

এদিকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২২ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ প্রথমবার সরকার গঠন করে। উল্লেখিত প্রেক্ষাপটও সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

শেয়ার করুন