‘সুযোগ দিলে প্লেনের ইঞ্জিনও বানাতে পারবেন তারা’

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড.আতিউর রহমান বলেছেন, সব ধরনের গাড়ির মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে রাজধানীর ধোলাইখাল, জিঞ্জিরা, যশোর ও বগুড়ায়। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এ খাতকে সহযোগিতা করতে হবে। তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে প্লেনের ইঞ্জিনও বানাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি (১৯৫২-২০৪১) এবং জাতীয় শোক দিবসের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

আতিউর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের কল্যাণে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। ১৯৭২ সালের ৮ মিলিয়ন ডলার, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৮০ বিলিয়ন ডলারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয় উল্লেখ করে আতিউর রহমান বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলের বঙ্গবন্ধু, ঠিক ওই সময় তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে বিছিন্ন করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজধানী ঢাকাকে স্মার্ট সিটি করতে হবে। আর গ্রামগুলোকে শহরে রূপান্তর করতে হবে। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। তা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় নেতৃত্ব আগামীতে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক এই গভর্নর বলেন, অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমানে শুধু গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভরশীলতা। এ থেকে বেরিয়ে এসে এলএমজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া রফতানি আয় শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে কৃষি ও অন্যান্য খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। ১০০ বছরের জন্য গ্রিন ডেল্টা প্লান করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন অর্থের প্রয়োজন। এর মধ্যে সরকারের সক্ষমতা রয়েছে ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন। বাকি অর্থ সংস্থানের জন্য বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। উপস্থিত ছিলেন, প্রাক্তন সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল হান্নান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী প্রমুখ।