হারে শুরু হাথুরুর লঙ্কা অধ্যায়

মুক্তমন রিপোর্ট, ঢাকা: শেষ দুই ওভারে জিততে হলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ১৩ রান। হাতে আছে তাদের ১টি মাত্র উইকেট। কিন্তু জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন তেন্ডাই চাতারা। শ্রীলঙ্কার শেষ ব্যাটসম্যান চামারার উইকেটি তুলে নেন জিম্বাবুয়ের এই পেসার। তাতে করে ১২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন হিথ স্ট্রিকের জিম্বাবুয়ে। আর এই জয়ের ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে রইল তারা। অপরদিকে হার দিয়ে লঙ্কান অধ্যায় শুরু হলো চন্ডিকা হাথুরুসিংহের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কতই না জয় উৎসবের স্মৃতি রয়েছে চন্ডিকা হাতুরুসিংহের। আর পেশাদারি ক্যারিয়ারের নতুন মিশনটাও হয়তো সেই রঙিন আলোতে উপভোগের অপেক্ষায় ছিলেন এই শ্রীলঙ্কান। তার ওপর বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডে ম্যাচ। কিন্তু সব উপলক্ষই যে মাটি করে দিলো জিম্বাবুয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটেবড় ব্যবধানে হারা আফ্রিকান দেশটি শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিয়েছে হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কাকে।
এমনকি শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলা থিসারা পেরেরার দুর্দান্ত ইনিংসটাও বাঁচাতে পারেনি লঙ্কানদের ১২ রানের পরাজয়ে। জিম্বাবুয়ের নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে করা ২৯০ রানের জবাবে লঙ্কানরা ৪৮.১ ওভারে গুটিয়ে ২৭৮ রানে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে বাজেভাবে হারে শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের ত্রিদেশীয় সিরিজ। ৮ উইকেটে হারের ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার মিশনে সামনে পায় ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে। গত বছর এই লঙ্কানদের তাদেরই মাঠে সিরিজ হারিয়ে এসেছিল জিম্বাবুয়ে।
আর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই ছিল আফ্রিকার দেশটির সেরা সুযোগ। সেটা কাজে লাগাতে ভুল করেনি, ব্যাট হাতে সিকান্দার রাজার হার না মানা ৮১ রানের ইনিংসের পর বল হাতে জ্বলে ওঠেন তেন্ডাই চাতারা, এই পেসারের শিকার ৪ উইকেট। তার সঙ্গে কাইল জারভিস (২/৫৬) ও গ্রায়েম ক্রেমামের (২/৬২) বোলিংয়ে ২৭৮ রানে শেষ হয় লঙ্কানদের ইনিংস।
ভারত সফরে ভীষণ খারাপ সময় কাটিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ থেকে হাথুরুসিংহেকে ‘ছিনিয়ে’ নিয়ে নতুন শুরু স্বপ্ন ছিল তাদের। যদিও জিম্বাবুয়ের ধাক্কায় হতাশা আরও বাড়লো দ্বীপ দেশটির। যে মাঠে দীর্ঘদিন কোচিং করিয়ে গেছেন বাংলাদেশকে, যে পিচের আচরণ তার নখদর্পণে, সেই মিরপুরে হতাশায় শুরু হলো হাথুরুর লঙ্কা মিশন।
বাংলাদেশের সাবেক কোচকে সবচেয়ে হতাশ করেছেন তার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। কুশল পেরেরা দারুণ একটি ইনিংস খেললেও হতাশ করেছেন উপুল থারাঙ্গা ও ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে দলে সুযোগ পাওয়া কুশল মেন্ডিস। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইনিংস শুরুর পর জারভিসের আঘাতে থারাঙ্গা ফেরেন ১১ রান করে। কুশল তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি, চাতারার প্রথম শিকার হয়ে সাজঘরে ফেলেন শূন্য রানে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারার কারণে এ টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে দ্বিতীয় ম্যাচটি হিথ স্ট্রিকের দলের জয় ছাড়া বিকল্প চিন্তা করার কোনো সুযোগ ছিল না। আর সেই লক্ষ্যে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় গ্রায়েম ক্রেমারের জিম্বাবুয়ে।এর আগে মিরপুর শেরেবাংলায় শততম ওয়ানডে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠান। ওপেনিং জুটিতেই বড় সংগ্রহের আভাস দিতে থাকে জিম্বাবুয়ে। হ্যামিলটন মাসাকাদজা-সলোমন মিরে ওপেনিং জুটিতে তুলে নেন ৭৫ রান।
মিরে ৩৭ বলে ৫টি বাউন্ডারিতে করেন ৩৪ রান। অপর ওপেনার মাসাকাদজা ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দিকেই এগুচ্ছিলেন। তবে, ৭৩ রানে থামেন এই ডানহাতি ওপেনার। ৮৩ বলে ১০টি চারের সাহায্যে মাসাকাদজা তার ইনিংসটিকে সাজান।
পরে তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নামা ক্রেইগ আরভিন (২ রানে) দ্রুত বিদায় নিলেও উইকেটে থিতু হন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর। সিনিয়র এই ব্যাটসম্যান নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেলেও ৩৮ রানের বেশি করতে পারেননি। তার ৫১ বলের ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারি।

পরে ম্যালকম ওয়ালার ৩৫ বলে ২৯ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। তবে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের পথে শেষ দিকে দারুণ আগ্রাসী ব্যাটিং করেন সিকান্দার রাজা। শেষ পর্যন্ত সিকান্দার ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ৬৭ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার আর একটি বিশাল ছক্কা।

এর মাঝে পিটার মুর ১৯ রান করে আউট হয়ে গেলেও জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার (০ রানে) অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার আসেলা গুনারতেœ তিনটি, থিসারা পেরেরা ২টি এবং সুরাঙ্গা লাকমল ১টি উইকেট পান।