হিল্লা বিয়েতে বাধ্য করাতে গিয়ে কারাগারে চার মাতব্বর

প্রকাশিত

বগুড়া প্রতিনিধি : হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এক ঘরে করার চেষ্টা করায় গ্রাম্য মাতব্বরদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় চার মাতব্বরকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগুড়ার শাজাহানপুরের কড়িআঞ্জুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে,হিল্লা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই গ্রামের ফতোয়াবাজরা দুই সন্তানসহ গোলাপী বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূকে একঘরে করে। প্রবাসী স্বামী আবদুল মোমিন ফোনে এক বছর আগে তাকে তালাক দিতে চাওয়ায় গ্রাম্য শালিস ডেকে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ শাজাহানপুর থানায় তার ভাসুরসহ ছয় মাতব্বরের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করে। বাকিরা পলাতক।

গ্রেফতারকৃত ফতোয়াবাজ মাতব্বররা হলেন, কড়িআঞ্জুল গ্রামের ফজলুর রহমান (৫০),আনছার আলী (৬৫),মোজাফ্ফর রহমান (৪০) এবং আব্দুল আলিম (৪০)।

গোলাপী বেগম জানান, ১২ বছর আগে কড়িআঞ্জুল গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে আবদুল মোমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। গত বছর কোরবানি ঈদের আগে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী রাগে মোবাইল ফোনে তাকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন। পরদিন স্বামী ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তার ভাসুর মোখলেসুর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামে প্রচার করে দেন। এ নিয়ে গ্রামে এক বছর ধরে কানাঘুষা চলেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভাসুরের ডাকে গ্রামে শালিস বসে। সেখানে গ্রেফতারকৃত চার মাতব্বরা ছাড়াও একই গ্রামের পুটু মিয়া রায় দেন, মোমিন ফোনে বললেও গোলাপীর তালাক হয়ে গেছে। তাই তাকে সংসার করতে হলে অন্য একজনের সঙ্গে হিল্লা বিয়ে করতে হবে। এরপর নতুন করে তাদের বিয়ে পড়াতে হবে।

গোলাপী বেগম তাদের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করায় তাকে দুই সন্তানসহ একঘরে ঘোষণা করা হয়। তাকে এই ঈদে কোরবানি দিতে দেওয়া হয়নি। মাতব্বরদের ভয়ে গ্রামের কেউ তাদের সঙ্গে মেলামেশা করেন না। গত ১৪ দিন ধরে গোলাপী সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাধ্য হয়ে তিনি বুধবার সন্ধ্যায় ভাসুরসহ পাঁচ মাতব্বরের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। রাত ১১টার দিকে এসআই তাজমিলুর রহমান অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে ফতোয়াবাজ মাতব্বর ফজলুর রহমান, আনছার আলী, মোজাফফর রহমান ও আবদুল আলিমকে গ্রেফতার করে। অপর মাতব্বর পুটু মিয়া ও তার ভাসুর মোখলেসুর রহমান পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

গৃহবধূ গোলাপী বেগম জানান, প্রবাসী স্বামী রাগের মাথায় ফোনে তালাক দিতে চেয়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেলেও ভাসুরের উষ্কানিতে মাতব্বররা তাকে হিল্লা বিয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অমান্য করায়  গত ১৪ দিন ধরে তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শাজাহানপুর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে ওই পরিবার ভালো আছে। সকলে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে।

শেয়ার করুন