‘৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত’

ডেস্ক :  রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। শনিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘সড়কে নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছে। এক বাসের সঙ্গে অন্য বাসের রেষারেষি ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রীরা। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে বাস থামানো হচ্ছে, রাস্তার মাঝপথে গতি কমিয়ে চলন্ত বাসে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। যেগুলো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন।’

‘যাত্রী ধরার জন্য বাসে-বাসে চলে ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতা, অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার ঢাকায় এটা গণপরিবহনের নিত্য দিনের চিত্র।’

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এ সব দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলতে চাই। কেন না, আমাদের সড়কের সমস্ত অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর পরিবেশে আমাদের যাতায়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি বাস মিনিবাসের ব্যবসা মূলত চালকরা নিয়ন্ত্রণ করছে।’

দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ইজারায় প্রতিটি মালিক তার বাসটি চালকের হাতে তুলে দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতেই চালকরা যাত্রী ধরার জন্য বাসে-বাসে ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। এই পরিস্থিতিতে বাস চালাতে গিয়ে বাসের নিচে কে পড়ল বা কার হাত-পা গেল তা দেখার সময় নেই চালকদের। তাই সরকার‌কে এই বিষ‌য়ে নজর দেওয়ার জন্য অনু‌রোধ ক‌রেন তি‌নি।’

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব হো‌সেনের নিহতের ঘটনায় সারা দেশে গুমরে কেঁদে ওঠে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘অথচ প্রতিদিন বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কের ঝরছে কমপক্ষে ৬৪টি তাজা প্রাণ। প্রতিদিন আহত পঙ্গুত্বের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ।’

সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সড়কের শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ছে দাবি করে বক্তারা ব‌লেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ৩১ লাখ যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, অনিবন্ধিত ভুয়া নাম্বার ধারি ও অযান্ত্রিক যান মিলে প্রায় ৫০ লাখ যানবাহন রাস্তায় চলছে, যার ৭২ শতাংশ ফিটনেস বিহীন। অন্যদিকে সারাদেশে ৭০ লাখ চালকের মধ্যে বিআর‌টিএ লাইসেন্স আছে মাত্র ১৬ লাখ চালকের হাতে।’

বক্তরা জানান, রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়া চলাচল করে, ফলে এসব বাসে দুর্ঘটনায় কারও হাত, কারও পা, কারও মাথা বা কারও জীবনও চলে যায়।

বিআরটিএ ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সড়কের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে তথাকথিত সনাতন পদ্ধতিতে জরিমানা আদায়ে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ মন্তব্য ক‌রে বক্তারা ব‌লেন, ‘পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে  চাঁদাবাজি, টোকেন বাজি, জরিমানা আদায় ও অর্থ আত্মসাতের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে।’

‘এ ছাড়া রাজনৈতিক ঠিকাদারেরা সরকারের কোর্ট গায়ে দিয়ে সরকারের আপন লোক সেজে সড়কে শত শত কোটি টাকার কাজ ভা‌গি‌য়ে নিয়ে যেন তেন ভাবে কাজ করে বিল নিয়ে লাপাত্তা হচ্ছে। অথবা রাস্তা কেটে মাসের পর মাস ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কর‌ছে। এ পরিস্থিতিতে সড়কে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি আরও চরম আকার ধারণ করেছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।’

আ‌লোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, ডিটিসি-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ অনেকে।