শিশুসহ বৃদ্ধ শরণার্থীকে ল্যাং: চাকুরী হারালেন সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পুলিশের বাঁধা এড়াতে পলায়নপর শরণার্থীদের মধ্যে শিশু কোলে এক বৃদ্ধকে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া হাঙ্গেরির একটি টেলিভিশনের এক নারী চিত্রগ্রাহক চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন।

হাঙ্গেরির রোসকি সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতার মধ্যে আরও অনেকের সঙ্গে খবর ও ছবি সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন এনওয়ান টিভির চিত্রগ্রাহক পেত্রা লাসলো। এসময় পেত্রা লাসলো শিশুকোলে এক বৃদ্ধকে ল্যাং মেরে ফেলে দেন।

langএই ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে দেন জার্মানির আরটিএল টেলিভিশনের সাংবাদিক স্টেফান রিচার। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে।

রোসকি সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীরা পুলিশের বেষ্টনি ভেঙে বুদাপেস্টের দিকে ছুট লাগায়। এর মধ্যে শিশু কোলে ছুটতে থাকা এক বৃদ্ধ হুড়োহুড়ির মধ্যে পেত্রা পাসলোর সামনে পড়ে যান।

স্টেফান রিচার প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ছুটতে থাকা শরণার্থীদের ছবি ধারণ করতে করতেই হঠাৎ দুই শিশুকে লাথি মারেন পেত্রা। পরে পা বাড়িয়ে ছুটন্ত ওই বৃদ্ধকে তিনি ফেলে দেন। পরে আবার সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন।

এ সময় পড়ে যাওয়া বৃদ্ধকে পেত্রার সঙ্গে তর্ক করতে এবং শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যায় বলে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

তুরস্ক উপকূলে বালুর মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা শিশু আয়লান কুর্দির ছবি তুলে যেখানে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছেন তুর্কি নারী ফটোগ্রাফার নিলুফার দেমির, সেখানে আরেকজন নারী চিত্রগ্রাহকের এমন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

‘দ্য পেত্রা লাসলো ওয়াল অফ শেইম’ (লজ্জার দেয়াল পেত্রা লাসলো) নামে একটি ফেইসবুক পৃষ্ঠায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।

হাঙ্গেরির শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট সংবাদপত্র ‘ইনডেক্স’ শরণার্থী দুই শিশুকে পেত্রার লাথি মারার ছবিও প্রকাশ করেছে।

এই আচরণের জন্য পেত্রাকে বরখাস্ত করেছে এনওয়ানটিভি। এর প্রধান সম্পাদক সাবোলস কিসবের্ক টেলিভিশনের ওয়েসবাইটে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।