টিপস: সন্তানের সাথে সুসম্পর্ক

ডেস্ক প্রতিবেদনঃ বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক খারাপ হলে পরিবারে দেখা দেয় নানা জটিলতা, আর অশান্তি। বাবা-মা-সন্তানের সুসম্পর্কে গড়ে তুলতে শিশু বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন সহজ কিছু টিপস।

সম্পর্ক তৈরি
দায়িত্ব পালন এক বিষয়, আর সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্পূর্ণ আরেক বিষয়৷ ছোটবেলা থেকেই শিশুর সাথে খেলাধুলা করুন, বই পড়ুন, টিভিতে শিশুদের অনুষ্ঠান দেখুন৷ এছাড়া তাকে অন্য শিশুর সাথে মিশতে, খেলতে দিন৷ এতে বোঝা যাবে আপনার শিশুর পছন্দ, অপছন্দ, ভালো লাগা, মন্দ লাগা। শিশুর পছন্দকে গুরুত্ব দিন। তবে অনুচিত পছন্দ যেন আবার গুরুত্ব না পায়৷

বাবার দায়িত্ব
দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো সন্তানরা মায়ের সাথে যতটা সহজ, বাবার সাথে ততোটা নয়৷ তাই বাবার উচিৎ হবে সন্তানের জন্য কিছুটা সময় বের করে তাদের সাথে মেশা। বিদেশে অনেক বাবাকেই দেখা যায়, ছুটির দিনে সন্তানকে নিয়ে পার্কে, জাদুঘরে বা অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে৷ এর মাধ্যমে বাবার সাথে সন্তানের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে৷

সমান দায়িত্ব
সন্তানদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়তে মা-বাবার সমান দায়িত্ব। তাই দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সব বিষয়ে কথা বলুন৷ এতে ছেলেমেয়েরা সহজ হয়ে তাদের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার কথা জানাবে। শিশুদের ভয় দেখিয়ে কখনো কাছে আনা যায় না৷ তারা কোনো অন্যায় করলে তা নিয়ে সরসরি আলোচনা করতে হবে৷

প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা
প্রায়ই দেখা যায় মা, বাবা, আর সন্তান – প্রত্যেকে যে যার মতো মোবাইল,  ট্যাবলেট বা কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত৷ ভার্চুয়াল জগতের কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় বাস্তব। আর এসব প্রযুক্তির অতি ব্যবহার পারস্পরিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করে। তাই প্রয়োজনে এসব যন্ত্র সরিয়ে রেখে দিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করুন।

সন্তানের সামনে ঝগড়া নয়
বাবা-মায়ের নিয়মিত ঝগড়া সন্তানদের মনে ভীষণভাবে রেখাপাত করে, যা বড় বয়সেও তারা ভুলতে পারে না৷ শুধু তাই নয়, কোপেনহাগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন,  যারা খুব বেশি ঝগড়া করেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি৷  তাছাড়া বাবা-মা সারাক্ষণ ঝগড়া করলে সন্তানরা বিষণ্ণতায় ভোগে, যা পরবর্তীতে তাদের ভেতরে থেকে যায়৷

আলোচনার বিকল্প নেই
পরিবারের সুখ-শান্তি রক্ষায় আলোচনার কোনো বিকল্প নেই৷ তাই শিশুকে একজন সম্পূর্ণ মানুষ ভেবে আলোচনায় তাকেও অংশ নিতে দিন৷ শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, তাকেও বলার সুযোগ দিন৷ এতে শিশুটি বুঝবে যে, সেও পরিবারের একজন সদস্য এবং তার মতামতেরও মূল্য আছে৷ এর ফলে শিশুর দায়িত্ববোধ এবং অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে।

বকাঝকা চলবে না     
এ যুগের জীবনযাত্রা মোটেই সহজ নয়।  কিন্তু এরপরও মা-বাবা তাদের দৈনন্দিন জীবনের চাপ সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না৷ কারণ শিশুদের মন খুবই কোমল। এতে খুব সহজেই তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ৷ তবে দৈনন্দিন সমস্যার কথাও সন্তানদের সাথে শেয়ার করুন৷ হয়তো তাদের কাছেই পেয়ে যাবেন সমস্যার সহজ সমাধান৷ বকাঝকা করে বা ভয় দেখিয়ে সন্তানদের কাছে আনা যায় না৷

স্বপ্ন আর বাস্তবের তফাৎ
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল হয়নি বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় মনের মতো সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে শিশুকে বকাঝকা না করে, বরং তার প্রতি আরো বেশি যত্নশীল হোন। তাকে সাহস দিন আগামীবারের সফলতার জন্য৷ তাছাড়া পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে।