শীর্ষ ১শ’ গ্রাহকের বকেয়া ৭০ হাজার, খেলাপী ৫ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দেশের ব্যাংকিং খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে মোট খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে খেলাপী ঋণের হার হচ্ছে প্রায় ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত জুন প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপীর মোট বকেয়ার পরিমাণ হচ্ছে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা এবং খেলাপী ঋণের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বকেয়ার দুই-তৃতীয়াংশ-ই (৬৬ শতাংশ) হচ্ছে খেলাপী।

একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে শীর্ষ ১০০ ঋণ গ্রহীতারও একটি তালিকা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, শীর্ষ ১০০ ঋণ গ্রহীতার কাছে বকেয়ার পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপী।

এমতাবস্থায় দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণ কমিয়ে আনতে শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপীর কাছ থেকে বকেয়া ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর গৃহীত পদক্ষেপ এবং তাদের ঋণ হিসাবের সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘খেলাপী ঋণ ব্যাংকিং খাতের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। এটা এই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক সময় অর্থ আদায় সম্ভব হয় না। যা অনাদায়ী হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। তাই এই ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়ে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

‘এই হিসাব পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক খেলাপী ঋণ আদায়ে এক সাথে কাজ করবে’ বলে জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণ আদায়ের বিষয়ে এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল আমিন বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে খেলাপী থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই সব খেলাপী ঋণ আদায়ে সঠিকভাবে পুনঃতফসিল করা যায় তাহলে ভাল। নতুবা খেলাপী ঋণ অনাদায়ী হয়ে যাবে, যা সমগ্র ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

এদিকে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘খেলাপী ঋণ আদায়ে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। না হলে তা সমগ্র ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি স্বরূপ।’