দেশে মানবাধিকার শূন্যের নিচে : খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে ‘ভয়াবহ দুঃসময়’ চলছে দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বর্তমানে এ দেশের মানুষের মানবাধিকার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে।’

তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। ’

জাতিসংঘের ‘মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ দেশে শুধু বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরাই নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোরই কোনো নিরাপত্তা নেই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্ত হত্যা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও দল নিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে  কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ ১৯৫০ সালে ১০ ডিসেম্বরকে ‘মানবাধিকার দিবস’ ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।

বিএনপি চেয়াপারসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক ও মানবিক অধিকারহারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে যারা ব্যক্তিচিন্তা ও নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে। অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে অনেকে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মনে হয় ৩৬৫ দিনই এদেশের কোথাও না কোথাও মানুষের মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সর্বজনিন মানবাধিকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে-বিশ্বের সব জাতির সব মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকরা জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনিন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের ওপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বরোচিত আক্রমণ।’

‘দুঃশাসনের’ ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিএনপি প্রধান।

‘মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে অপর এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তা দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

তিনি সরকারকে মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা নিয়ে বড় বড় বুলি নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।