মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের বন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের বন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী ওরফে এ কে এম ইউসুফ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে র‌্যাব ৮-এর একটি দল সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা ইউসুফকে (৫৮) গ্রেপ্তার করে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর বাহিনীতে ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মো. রুহুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবারই ইউসুফকে বাগেরহাটের হাকিম আদালতে নেওয়া হবে। পরে পাঠানো হবে ঢাকায়।

গ্রেপ্তার ইউসুফ আলী জামালপুরের চাঁনপুর হরিণাকান্দা গ্রামের আব্দুল খালেক ওরফে খালেক মাস্টারের ছেলে।

তার বড়ভাই এ বিএম ইউনুস আলীকেও (৬৫) যুদ্ধাপরাধ মামলায় একই রাতে জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জামালপুরে একটি মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। সব মিলিয়ে এ মামলার মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও এএসপি রুহুল আমিন জানান।

গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ওমর ফারুক (৭০) এবং রেজাউল করিম ওরফে আক্কাস মৌলভী (৬৬)। আক্কাস মৌলভী মুক্তাগাছার চেচুয়া আলিয়া মাদ্রাসার সুপার।

বুধবার রাতে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “আসামি এ  কে এম ইউসুফ আলম মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র ছিলেন। সে সময়ে তিনি আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার সুবর্ণখিলা এলাকায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালান।”

প্রাথমিক তদন্তে ‘অভিযোগের সত্যতা’ পাওয়ায় গত ১ এপ্রিল জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আটজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের এই মামলা করা হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনে গত ৯ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ওসি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, “বন কর্মকর্তা ইউসুফ পরোয়ানা জারির খবর পেয়ে শরণখোলা ছেড়ে সুন্দরবনের দুবলা এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এ কে এম ইউসুফ আলম ১৯৭৯ সালের ৯ অগাস্ট বন বিভাগে ফরেস্টার পদে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার হন তিনি।

তবে কিছুদিন আগে পদোন্নতি পেয়ে শরণখোলার স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধ মামলার এই আসামি।