যুগান্তরের মালিকের বিরুদ্ধে জিডির তদন্তের নির্দেশ আদালতের

আদালত প্রতিবেদক : যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল ও তার মালিকানাধীন যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআরের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

‍আজ বৃহস্পতিবার রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলী হোসেন সাধারণ ডায়েরিটি তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেন তা মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৭ জানুয়ারি বিষয়টি আদালতকে অবহিত করতে হবে।

এর আগে গতকাল এনবিআরের পক্ষ থেকে গতকাল ৯ ডিসেম্বর রমনা থানায় ‍ওই জিডি করা হয়। ‍জিডি নং-৬২৪। এরপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ বোর্ড সভায় জিডি করার এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বাবুলের প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপকে ‘বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি প্রদানকারী’ প্রতিষ্ঠান বলা হয়েছে। বাবুলের মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের বিরুদ্ধে ‘অমার্জিত, শিষ্টাচারবিবর্জিত, মানহানিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যসম্বলিত ধারাবাহিক প্রতিশোধপরায়ণমূলক’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর যদি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে দেশের অগ্রগতি হবে না। এনবিআর এর উপর আক্রমণ হলে তা দেশের উপর আক্রমণের শামিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যখন উন্নততর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা থেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের পথযাত্রায় অগ্রসরমান এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দলবদ্ধ হয়ে সকল প্রকার দুর্নীতি, হয়রানি, অসদাচরণ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় অক্লান্ত পরিশ্রম করছে এবং সরকারের বার্ষিক কার্যসম্পাদন চুক্তির আওতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে একটি ব্যবসা-বান্ধব, করদাতা-বান্ধব এবং সর্বোপরি জন-বান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করে চলছে, তখন এ পত্রিকাটি ও যমুনা গ্রুপের মালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এনবিআর তথা সরকারকে ব্যর্থ করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।