ফিড ক্যাবল অপারেটরদের আলাদা সংগঠন ‘ফোয়াব’ আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি: ক্যাবল টিভি অপরেটরদের সংগঠন কোয়াব এর পাশাপাশি ফিড ক্যাবল অপরেটরদের আলাদা একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। মূলত স্যাটেলাইট টেলিভিশন সেবা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে আসন্ন পরিবর্তনকে ঘিরে ফিড অপারেটররা আলাদা একটি প্লাটফর্মে অবস্থান করতে চাইছে।
জানা গেছে আজ শনিবার ফিড ক্যাবল অপারেটররা রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে গোপন সভায় মিলিত হয়। গোপন ওই বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় ফিড অপারেটররা ছাড়াও বেশ কয়েকজন ক্যাবল অপারেটরও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে কোয়াবের অধীনে থেকে ফিড অপারেটরদের বিভিন্ন অপ্রাপ্তি ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় ফিড অপরেটররা তাদের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তারা এমএসও এবং সিইও ক্যাবল অপারেটর দ্বারা শোষণ ও বিভিন্ন চাপের বিষয়ে একমত হন। এছাড়া আগামীতে সেট টপ বক্স এর মাধ্যমে ওটিটি অপারেশন বিষয়ে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় ফিড ক্যাবল অপারেটরেরা তাদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য একটি সংগঠন তৈরী করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
দেশের সকল ফিড অপারেটরদের নিয়ে “ফিড ক্যাবল অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফোয়াব)” নামে আত্মপ্রকাশ করার মাধ্যমে MSO/CEO ক্যাবল অপারেটরদের জবাব দেয়ার জন্য ঐক্যমত পোষন করে এই সভা সমাপ্ত করা হয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কোয়াব নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। একদিকে ক্যাবল সেবা ব্যবসায় ডিজিটালাইজ হওয়ার বাধ্যকতা অপরদিকে নিজেদের নির্বাচন নিয়ে জটিলতায় তারা বেশ শঙ্কায় রয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে কোয়াবের সমন্বয় কমিটির আহ্বাবায়ক শামসুর রহমান শিমুল এই প্রতিবেদককে টেলিফোনে বলেন, আসলে ব্যবসার প্রকৃতিই পাল্টে যাচ্ছে। ফিড অপারেটরদের কোয়াব কখনই ফিড অপারেটর ভাবেনি, ক্যাবল অপারেটরই ভেবেছে। তারা কেন এখন আলাদা নামে সংগঠন করতে যাচ্ছে সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমি শুনেছি আজ ডিজিটাল ক্যাবল অপারেটরস অব বাংলাদেশ বা ফিড অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এই নামে নতুন কোন সংগঠন হচ্ছে। তবে ব্যবসার প্রকৃতি আর ধরণ পাল্টে যাওয়ায় কোয়াবই আর কোন কার্যকর বিষয় থাকছে না।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১ বছরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে ক্যাবল নামক এনালগ সিস্টেম তুলে দেয়ার যে বাধ্যবাধকতা সরকার করছে এতে সার্ভিস মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়াবে। তখন হয়তো ফিড অপারেটরদের নতুন ইনভেস্টমেন্ট ও কন্টেন্ট রাইট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। তবে এতে করে সরকার তার নির্ধারণ করে দেয়া ট্যাক্স নিশ্চিত তুলতে পারবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত এক অপারেটর এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা আমাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই সংগঠন করতে যাচ্ছি। আমাদের এত বছরের বিনিয়োগ এক মুহুর্তে হুমকীর মুখে পড়লে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষ বিপদে পড়বে। আমরা একমুখী বাণিজ্যের প্রতিপক্ষ হচ্ছি, অন্য কোন সংগঠন বা কারো ব্যক্তিগত বিরোধ এটা নয়।