বেড়েই চলছে আলোচিত হত্যাকাণ্ড

হুসাইন মোঃ জিয়াউল হুদা

সিনিয়র রিপোর্টার

আলোচিত একের পর পর এক হত্যাকাণ্ডে সামগ্রিকভাবে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও সরকারের ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানাবিধ প্রশ্নের তৈরি হয়েছে। নারি নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু হত্যা কান্ড সহ নানান ধরণের অপরাধ বেড়ে চলছে উদ্বেগ জনক হারে। এর একটা বড় অংশ নারীর প্রতি সহিংসতা। শুধু মাত্র এপ্রিল মাসেই সারা দেশে ১০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয় ১৭ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় দুজনকে। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১০ জনকে। এ ছাড়া গত মাসে ৪৬৩ জন নারী ও কন্যাশিশুকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। বিভিন্ন কারণে ৭৯ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়।

এই নিয়ে জাতীয় দৈনিক সহ প্রায় সকল মিডিয়াতেই বহু লেখা লেখি ও আলোচনার পরেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট মহলের। আলোচনা-সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা গুলো। মাঝে মধ্যে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বিভিন্ন বক্তব্য দেয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি মোটেই সুখকর নয়। এই নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একে অন্যকে দোষারোপ করলেও মূল ঘটনা গুলোর রহস্য ধরাছোঁয়ার বাহিরেই রয়ে গেছে। রাজনীতির এই নির্মম গাণিতিক খেলায় পিষ্ট হতে হচ্ছে দেশের সাধারন নাগরিকদের। ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারন জনগন। বিরোধী দলের উপর সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে একের পর হত্যা মামলা ও ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা সত্ত্বেও থেমে থাকেনি হত্যা যজ্ঞ।

বিগত বছরে ঘটে যাওয়া বহু হত্যা কাণ্ডের কোন কুল কিনারাই করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর কোন সংস্থা। একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তা বদলানো হলেও মূল ঘটনা গুলোর আজো কোন সুরাহা হয়নি। ব্লগার হত্যা, বিদেশী নাগরিক হত্যা, মুক্তমনা প্রকাশকদের হত্যা, ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোতে হত্যা, শিশু হত্যা, পুলিশ হত্যা সহ আরও অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দেশি-বিদেশী বহু সংগঠনকে দায়ী করা হলেও আজ পর্যন্ত বেশিরভাগ ঘটনার মূল কারণ রহস্যাবৃত হয়ে আছে। বিভিন্ন কারণে মামলার তদন্ত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন, তদন্ত কাজে অনীহা, বাদী ও আসামীর পক্ষ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পারা, প্রকত আসামীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা, উপরের মহলের নিয়মিত মনিটরিং এর অভাবের ফলে ব্যাহত হচ্ছে বেশিরভাগ তদন্ত কাজের অগ্রগতি।

ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সেনানীবাস সংলগ্ন সুরুক্ষিত অঞ্চলে কুমিল্লা ভিক্টরিয়া কলেজের ছাত্রি সোহাগী জাহান তনু হত্যার তদন্ত কাজের আজোও কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সারা দেশে যখন এই হত্যা কাণ্ডের বিরুদ্ধে জোর আন্দলন চলছিলো ঠিক তখন গাজীপুরের কাশিমপুরে প্রধান কারারক্ষীকে ও বিকালে রাজধানীর কলাবাগানে বাংলাদেশর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে সমকামিতার অভিযোগে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগেরর শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী ,একই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পরমানন্দ রায় নামে এক সাধুকে প্রায় একই কায়দায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আনসার আল ইসলাম নামে একটি উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন। ১৯ ই মে,২০১৬  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় আটক শিবির কর্মী হাফিজুল ইসলাম রাজশাহী মেডিকেলে মারা যায়। ওই খুনের রেশ না কাটতেই ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরনো ঢাকায় ব্লগার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

গত বছরের ১ নভেম্বর আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ও প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই দিন কলাবাগানে শুদ্ধস্বরের প্রকাশনীর কার্যালয়ে আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক তারেক রহিম ও রণদীপম বসুকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মন্দিরের পুরোহিত জগেশ্বরী দাসাধিকারী, ৫ অক্টোবর ঈশ্বরদীতে ধর্মযাজক লুক সরকারকে হত্যার চেষ্টা, ১১ নভেম্বর দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার মির্জাপুর বাস স্ট্যান্ডে ইতালির নাগরিক ডা. পিয়েরো পারোলারিকে হত্যার চেষ্টা, ২৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ড. অভিজিৎ রায়কে হত্যা, ৭ আগস্ট নিলাদ্রী চ্যাটার্জি ওরফে নিলয় হত্যা, ৩০ মার্চ তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান বাবু হত্যা, ১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্লগার আহমেদ হায়দার রাজিবকে হত্যা, ১৫ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যা চেষ্টা ও একই বছরের ১০ এপ্রিল বুয়েটের ছাত্র ও ব্লগার আরিফুর রহমান দীপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়।

২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে গুলি করে হত্যা করা হয় ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজারকে। এ ঘটনার ছয় দিনের মাথায় রংপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানি নাগরিক হোসিও কোনি। গত বছরের ৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর জ-১০/১ মধ্যবাড্ডার বাসায় হত্যা করা হয় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ খিজির খানকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এ ঘটনার সাথেও জড়িত জঙ্গিরা। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর গাবতলীতে চেকপোস্টে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ইব্রাহিম মোল্লা নামে পুলিশের ওই এএসআইসহ সাত-আট পুলিশ ও আনসার সদস্য চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার সময় একজন ধরা পড়লেও বাকিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সূত্র মতে জানা যায়, মামলাটির তদন্ত এখন থেমে আছে।গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের হোসনি দালানে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দু’জন নিহত ও অন্তত ১৫০ জন আহত হন। গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যার পরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চককানু গ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের আল মোস্তফা মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০) নিহত এবং ইমামসহ তিনজন গুরুতর আহত হন।

২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গোপীবাগের আরকে মিশন রোডের চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় লুৎফর রহমান ফারুক ও তার ছেলেসহ ছয়জন খুন হন। ঘটনার আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বর্তমান তদন্ত সংস্থা ডিবি কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বর বাসার দোতলায় গলা কেটে হত্যা করা হয় বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে। শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হলেও তদন্ত সংস্থা হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ২০১৩ সালের ৯ মার্চ রাতে রাজধানীর খিলক্ষেতে রেললাইন থেকে পুলিশ প্রখ্যাত সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই আহমেদ মিরাজের মরদেহ উদ্ধার করে। আলোচিত ওই হত্যা মামলাটি খিলক্ষেত থানা ও ডিবির হাত ঘুরে এখন তদন্ত করছে সিআইডি। কী কারণে আহমেদ মিরাজ খুন হয়েছেন, সে রহস্য জট এখনও খোলেনি।এসব ঘটনার মধ্যে বেশির ভাগেরই তদন্ত এখনো চলছে। কিন্তু দৃশ্যত এসব মামলার তদন্তে কোনোই অগ্রগতি নেই বলে সূত্রমতে জানা যায়।

এসব ঘটনায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আহ্বান জানায়। তাদের এ আহ্বান এখনও অব্যাহত রয়েছে। মুক্তমনা লেখকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ এখনও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এছাড়াও কয়েকটি ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়ায় বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিকভাবেও চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

যদিও সরকার এবং আইনশৃংখলা বাহিনী বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ব্লগার, প্রকাশক হত্যায় সারা দেশে এখন পর্যন্ত ২১টি মামলা হয়েছে বলে জানা যায়। তার মধ্যে ১৬টা মামলার ‘ডিটেকশন’ হয়েছে ।ঢাকা মহানগরে মোট ১১টা মামলা হয়েছে। ওই ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটির সাথে বিভিন্ন উগ্রবাদী জঙ্গি সংঘটন জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে মাত্র পাঁচটি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় হয়েছে। সেখানে আট জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, বেশকিছু মামলার এখনো তদন্ত চলছে। তার একটি হলো অভিজিৎ হত্যা মামলা, একটি দীপন হত্যা মামলা যেটি শাহবাগে হয়েছিল; আরেকটি শুদ্ধস্বরে হত্যাচেষ্টা মামলা যেটি মোহাম্মদপুরে হয়েছিল; আরেকটি হলো নিলয় হত্যা মামলা- এগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

অনেক মামলা রয়েছে যেগুলো বছরের পর বছর ধরে তদন্ত চলছে। চার বছরে অর্ধডজন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি। মতিঝিলে কর্মচারী রিয়াদকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘরোয়া হোটেলের মালিক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাজধানীর রাজাবাজারে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী, ওয়ারীর সিক্স মার্ডার, টিএসসিতে ব্লগার বিশ্বজিৎ ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামসহ শতাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড মামলার অগ্রগতি বলতে শুধু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং তদন্ত সংস্থার পরিবর্তন। এসব চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য আজও উদঘাটন হয়নি এবং মূল আসামীরা ধরা পড়েনি । হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এরই মধ্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সালে সারা দেশে মোট ৪ হাজার ৫১৪ জন হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হন। ২০১৫ তে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৫ জন । চলতি বছরে প্রথম তিন মাসেই  সারা দেশে ১২১৫ টি খুনের ঘটনা ঘটে। এই হিসাবে দেশে প্রায় প্রতিদিন গড়ে ১১ জন নারি- পুরুষ  খুনের স্বীকার হচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর সমস্ত হত্যাকাণ্ড গুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করবার জন্য এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব মামলার নিয়মিত তদারকি করবার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর ৪৯ টি থানায় প্রায় ৫ শতাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত করছে থানা ও ডিবি পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ের হত্যাকাণ্ড গুলোর সাথে উঠে এসেছে দেশি বিদেশী বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্রবাদী জনগোষ্ঠীর নাম। আনসার উল্লাহ্‌ বাংলা টিম (এবিটি), জামাতুল মুজাদেহীন বাংলাদেশ, (জে এম বি), হরকাতুল জেহাদ বাংলাদেশ( হুজি), আনসার আল ইসলাম, হিজবুত তাওহীদ, ইসলামিক স্টেট( আইএস) সহ আরও বহু ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী পশ্চিমা দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবার উদ্দেশে এসব হত্যা কাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংঘটনগুলো মুলত ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তচিন্তার মানুষ, ধর্মান্তরিত মুসলমান, সমকামি, ও তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদেরকে টার্গেট করে কিলিং করছে।

একটির রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটানো হচ্ছে আরেকটি ঘটনা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যপক সতর্কতার পরেও খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে জড়িতরা। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে অন্যদিকে পুলিশ রয়েছে উদ্বেগ  ও উৎকণ্ঠায়।

আইনশৃংখলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় প্রতিদিনই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), জামা’আতুল মুজাদেহীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জেহাদ বাংলাদেশ (হুজি) ও আনসার আল ইসলামসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের অনুসারী এবং নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছে। তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বা আল কায়দায় যোগ দেয়ারও তথ্য পাচ্ছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। বিষয়টি জাতীয়ভাবে বড় ধরনের সমস্যা বলে চিহ্নিত হচ্ছে।

তবে দেশে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলে বারবার দাবি করা হচ্ছে। এসব ঘটনা বৃদ্ধিতে অপরাধ বিশ্লেষকরা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার শিথিলতাকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে পুলিশি তৎপরতায় ভাটা পড়ার কারণেই খুনোখুনির ঘটনা বেড়েছে। এক্ষেত্রে তারা পুলিশে রাজনীতিকরণ এবং চেইন অব কমান্ডের দুর্বলতাকেও অনেকটা দায়ী করছেন।