ব্যাংকিং সেক্টরে কাজের বাজে পরিবেশ

বাংলাদেশের বহু বানিজ্যিক ব্যাংকে কাজের সুস্থ পরিবেশ বিদ্যমান নাই। প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক কর্মী নিয়োগ, নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ দেয়া, বিনা পারিশ্রমিকে অতিরিক্ত সময় অফিসে ধরে রাখা সহ সরেজমিনে আরও বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কর্মীদের একস্থান হতে আরেক স্থানে বদলীর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে অহরহ। এসব নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কর্মীদের সুযোগ সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে না।

কর্মীদের নিয়োগদান পত্রে উল্লেখিত বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ছল চাতুরীর আশ্রয় নেয় ব্যাংকগুলো। নিয়োগ বানিজ্য, অর্থের বিনিময়ে প্রোমোশন ও সুবিধাজনক জায়গায় বদলীর ঘটনার বহু খবর পাওয়া গেছে।

অনেক ব্যাংকে নারী কর্মীদের বিভিন্নভাবে কাজের জায়গায় হয়রানী করা হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেয়া, সন্ধ্যা ৬ টার পর কর্মস্থল ত্যাগ করতে না দেয়া, পদন্নোতির বেলায় অসমতা,  অফিস সময় সহকর্মীর অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ আরও বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শাখা ব্যাবস্থাকপগনের বৈষম্যমূলক আচরণ, মানব সম্পদ বিভাগের অদক্ষতা, উচ্চ প্রশাসনের বিরুপ আচরণ সহ আরও বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে বেশীরভাগ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ পরিবেশ। এর ফলে দিন দিন কাজের পরিবেশ হয়ে উঠছে অসহনীয়।

ব্যাবসা সম্প্রসারণের নামে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। নিয়ম ভঙ্গ করে গ্রাহকদের বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। আর এর ফলে বহু বড় ধরনের আর্থিক অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা জনসম্মুখে ফাঁস হয়েছে।

বেশীর ভাগ ব্যাংকের নতুন শাখা গুলো অপ্রতুল জনবল নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করে ফলে এসব শাখা হতে  গ্রাহকগণ নিজেদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পায় না।এমনকি বহু গ্রাহকের লিখিত অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও এই এমন শাখার ব্যাবস্থাপকগন নিরব থাকেন।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য এবং নিজেদের মুনাফা অধিক বৃদ্ধির জন্য উচ্চ পর্যায় হতে এসব সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে অনীহা লক্ষণীয় । দিন দিন এসব সমস্যা বেড়েই চলছে।সরকারের পক্ষ হতে এসব ব্যপারে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা প্রদান করা হলেও কার্যত এসব ব্যাপারে কোন পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে না।