ই-বিআইএন ছাড়া ব্যবসায় কার্যক্রম বন্ধ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : আগামী ১৫ মার্চ থেকে নতুন ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আইনের আওতায় অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন শুরু হচ্ছে।৩০ জুন পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।
এ সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধন নেবে না আগামী ১ জুলাই থেকে সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহ, এলসি খোলা এবং আমদানি-রফতানিসহ সব ধরনের ব্যবসায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
অনলাইনে সেবা নেওয়ার জন্য ভ্যাট নিবন্ধন (ইলেকট্রনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর) বা ই-বিআইএন নেওয়ার বিষয়টি অনেকটা অনলাইনে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএনের মতো। ঘরে বসেই ব্যবসায়ীরা ভ্যাট নিবন্ধন নিতে পারবেন।
এরই মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের সনাতনী পদ্ধতিতে নিবন্ধন নেওয়া আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে এখন নতুন করে অনলাইন নিবন্ধন নিতে হবে। তবে বছরে ৩০ লাখ টাকার কম লেনদেন হয় যেসব প্রতিষ্ঠান সেগুলো এর বাইরে থাকবে। বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ টাকার বেশি হলেই কেবল অনলাইনে নিবন্ধন নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপপরিচালক জাকির হোসেন বাসসকে বলেন,আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। তখন অনলাইনেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে হবে।এজন্য আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করার অনুরোধ করেছি।
তিনি বলেন, আগে ভ্যাটের নিবন্ধন দেওয়া হতো সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে এবং এর নম্বর ছিল ১১ ডিজিটের। অনলাইনে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে সার্কেল অফিসের পরিবর্তে কেন্দ্রিয়ভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে এবং তা হবে ৯ ডিজিটের। আগে একই গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন নিবন্ধন নিতে হতো। অনলাইনের আওতায় সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন হবে অভিন্ন (ইউনিক)। একটি ব্যবসায়িক গ্রুপের অধীনে যতগুলো সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর জন্য শুধু একটি অভিন্ন ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এনবিআরের এই কর্মকর্তা বলেন, ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পে সফটওয়্যার এমনভাবে ইনস্টল করা হয়েছে যে, নিবন্ধন না নিলে ৩০ জুনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করে মাত্র ৩২ হাজার।
জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা দেড় লাখ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের আওতায় (এলটিইউ) ২৬৩টি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পুন:নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মোট ভ্যাট রাজস্ব আয়ের ৬০ শতাংশ আছে বলে তিনি জানান।
১৫ মার্চের আগেই আরো ৬১টি করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।