ইইউ সংস্কার না করলে এবার ফ্রেক্সিট!

ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের চলে যাওয়ার নিশ্চিত হওয়ার পরে এবার সংস্থাটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের হুমকি দিলেন ফ্রান্সের হবু প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরন।
ম্যাকরন বিবিসিকে বলেছেন, ইইউ যদি সংস্কার করা না হয় তবে ব্রেক্সিটের মতো এবার ফ্রেক্সিট হবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এমন ইঙ্গিত তিনি সপ্তাহ খানেক আগেই দেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেরি লি পেন ইইউ বিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করে ভোট জেতার চেষ্টা করছেন এমন ধারনার প্রেক্ষিতেই ম্যাকরন এমন মন্তব্য করেন।
তবে আজ মে দিবসের এক র‍্যালিতে তিনি বলেন, আমি একজন প্রো-ইউরোপিয়ান। তবে আমাদের নির্বাচনে ইউরোপিয় ইউনিয়নের পলিসি, নির্দশনা সবই প্রতিরোধ করেছি। কারণ আমি মনেকরি বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের কেবল একটি অঞ্চল নিয়ে থাকলেই হবে না।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে সেটা দ্বিপাক্ষিক।
তবে এ প্রসঙ্গে বিবিসিকে তিনি বলেন, সংস্থাটির সংস্কার জরুরি। সেটা করলেই আমরা তাদের সঙ্গে থাকতে পারি। আর না হলে ব্রেক্সিটের মতো আরেকটি ফ্রেক্সিট হবে।
উল্লেখ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের অপসারণ বা চলে যাওয়াকে সংক্ষেপে ব্রেক্সিট বলে। এই ইস্যুতে গণভোট,পার্লামেন্টে অনুমোদনের কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে এখন কার্যকর একটি বিষয়।
ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সুলভ মূল্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অভিন্ন বাজারসুবিধা। ১৯৯৩ সালে ইইউ নিজস্ব মুদ্রা, নীতিমালা, নাগরিকদের জন্য সীমানামুক্ত বিচরণসহ যুক্ত করাসহ অনেকগুলো পরিবর্তন আনে। তবে অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ব্রিটেনের ইইউ’র বিধি-নিষেধ মেনে চলা নিয়ে বেশ নাখোশ ছিলেন।
তাই ইইউ থেকে ব্রিটিশ জনগণের থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বা ব্রেক্সিট নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোট অণুষ্ঠিত হয়।হয়। ব্রিটেনের ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে দেশটির জনগণই ঐ গণভোটে চূড়ান্ত রায় দেন।
ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকার বিপক্ষে ৫২ শতাংশ ও পক্ষে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়ে।
গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পর একই বছরের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরুন। ক্যামেরুনের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের ৭৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন টেরেসা মে।