‘চালকদের ৮ ঘণ্টা শ্রম নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা দরকার। দেশের সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত শ্রমই দায়ী। চালকদের আট ঘণ্টা শ্রম নিশ্চিত করতে হবে; যাতে তারা ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালাতে পারে। বন্ধ করতে হবে অমানবিক শিশু শ্রম। এতে অনেক দুর্ঘটনা কমে আসবে।
মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, চালকরা যখন তারা আট ঘণ্টার বেশি ড্রাইভিং করেন- তখনই বেপরোয়া হয়ে দুর্ঘটনা ঘটান। অতিরিক্ত সময় কাজ করে শারিরীক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। আর তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কমাতে গাড়ির চালক-শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বাড়ে। দেশে নজিরবিহীন উন্নয়ন হয়। অন্যদিকে বিএনপি ক্ষমতা এলে শ্রমিকদের পেটে লাথি মারে। শ্রমিকদের রক্ত ঝরে। দেশের কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শ্রমিক নেতাদের নামে চাঁদাবাজি যেন না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। চাঁদাবাজী হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও শ্রমিক লীগের নামে চাঁদাবাজীর ঘটনা শোনা যায় না। তবে বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে- তাও খেয়াল রাখতে হবে; নেতাদেরও সংশোধন হতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অশুভ শক্তি তৎপর। তারা নানা সময়, নানা ফর্মুলা দিচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে তারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার দিতে হবে। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল তারা। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিয়েছে আদালত। ওই ফর্মুলা আর দেশে ফিরে আসবে না। তাই এখন নতুন নাম দিয়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বলছে তারা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবিধানের কোথাও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়টি উল্লেখ নেই। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই। তাই সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনার প্রস্তুতি নেন।
শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিভাগের সম্পাদক হাবিবুর রহমান, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।