ভৈরবে গণমাধ্যম কর্মীদের শিক্ষা বিষয়ক কর্মশালা

প্রতিনিধি : বর্তমান বিশ্বে ২৫ বছরের কম বয়সী মানুষ বা যুবসম্প্রদায়ের সংখ্যা প্রায় ৩০০ কোটি। যাদের একটি বড় অংশ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। যারা অনেক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ১০ কোটি বেশী শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সাথে জড়িত। যার মধ্যে ৫অ লাখ শ্রমদাস হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এখনও বিশ্বব্যাপী ১০ কোটিরও বেশী শিক্ষার্থী রয়ে গেছে স্কুলের বাইরে। গত ১০ বছরে ২০ লাখ শিশু মারা গেছে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সহিংসতার কারণে। মেয়ে শিশু ও নারীর ওপর নির্যাতনের হারও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতিজন নারীর মধ্যে ১ জন কোন না কোন রকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
পরিসংখ্যানের এমন তথ্যে বিচলিতই নয় শুধু, হুমকির মুখে পড়বে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এর ৪র্থ লক্ষ্য অর্জন। তাই সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং শিক্ষা অধিকার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সিভিল সোসাইটি, শিক্ষক, কর্পোরেট সেক্টর, গবেষক যুবদের অংশ গ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ভৈরবে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গণসাক্ষরতা ও সাদ বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ওই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাদ বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সালামগীর আলম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফারুক, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মনসুর, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম তাজভৈরবী।
একজন সুবিধা বঞ্চিত শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করার মানসে শপথ পাঠ।
সাদ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী এম.মতিউর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় ওই কর্মশালার মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক পূর্বকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মো. আলাল উদ্দিন, বৈশাখী টেলিভিশনের মো. আদিল উদ্দিন, জিটিভির এম.এ.হালিম, সাপ্তাহিক অবলম্বনের শামীম আহমেদ, এশিয়ান টিভির আলহাজ্ব সজীব আহমেদ প্রমুখ।
কর্মশালায় নিজের আশে পাশের অন্তত একজন সুবিধা বঞ্চিত শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করার মানসে শপথ করেন গণমাধ্যমকর্মীসহ অতিথিবৃন্দ। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষার পরিবেশ উন্নতকরণ, সুনির্দিষ্ট শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষা অর্জন ও বিতরণে বৈষম্য দূরীকরণ, সকল স্থরের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ও অবৈতনিককরণ, মানসম্মত শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন আলোচকরা।