দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানো অবৈধ: হাইকোর্ট

ডেস্ক : সম্প্রতি দুই দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। এতে গ্রাহক ও ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। গত মার্চ মাসে যখন প্রথম দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় তখন থেকেই এর বিরোধীতা করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার সংগঠন।
পরে জুন মাসের ১ তারিখে দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বেড়ে হয় এক চুলা-৮০০ টাকা এবং দুই চুলা-৯৫০ টাকা। কিন্তু আজ রোববার হাইকোর্ট এক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানো অবৈধ।
এ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করে ভোক্তা অধিকার রক্ষার সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)। ক্যাবের পক্ষে মুবাশ্বির হোসেন রিট মামলা দায়ের করেন। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হলো।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিইআরসি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দুই দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বিইআরসি। ঘোষণা অনুসারে, ১ মার্চ থেকে প্রতি চুলা গ্যাসের জন্য ৭৫০ টাকা। এটি ১ জুন থেকে ফের বেড়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৯০০ টাকায়। আর ১ মার্চ থেকে দুই চুলা গ্যাসের জন্য খরচ যাবে ৮০০ টাকা; যা জুনে গিয়ে বেড়ে হওয়ার হচ্ছে ৯৫০ টাকা। এ ঘোষণা এখন কার্যকর রয়েছে।
১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি গ্যাসের দাম হয় ৩৮ টাকা। এটি ১ জুনে গিয়ে দাঁড়ায় ৪০ টাকা। মার্চ থেকে গ্যাসের বাণিজ্যিক ইউনিট প্রতি খরচ ১৪ টাকা ২০ পয়সা আর জুন থেকে এ ক্ষেত্রে খরচ ১৭ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন।
একইসঙ্গে আদালত গ্যাসের মূল বৃদ্ধি করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান, সচিবসহ তিনজনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ফলে ১ জুন থেকে ৯০০ টাকা ও ৯৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়।তবে প্রথম দফায় বাড়িয়ে গত ১ মার্চ থেকে একচুলা ৭৫০ টাকা ও দুই চুলা ৮০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
ওই রিটে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন-২০০৪’ অনুসারে বছরে একবারের বেশি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। অথচ এ দফায় একবারেই দুই ধাপে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া গণশুনানির মাধ্যমে ৯০ দিন পর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কথা। ফলে এবারের মূল্যবৃদ্ধিতে আইনের সেসব বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে।